২ ‘জেএমবি সদস্য’ গ্রেপ্তার পল্লবী থেকে

ইন্টারনেট থকে নেয়া 


গতকাল সোমবার রাজধানীর পল্লবী এলাকা থেকে দিবাগত রাতে জামা’আতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করার দাবি করেছে র‍্যাব।


আজ মঙ্গলবার দুপুর ১টায় রাজধানীর কারওয়ান বাজারের বিএসইসি ভবনে র‍্যাবের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান র‍্যাব ৪-এর সিইও লুৎফুল কবির। লুৎফুল কবির জানান, র‍্যাবের গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে গতকাল দিবাগত রাত ১২টা ২০ মিনিটে রাজধানীর পল্লবী থানা এলাকা থেকে মো. আতিকুর রহমান ওরফে মিলন (২১) ও মো. খাদেমুল ইসলাম ওরফে খাদেম ওরফে গাজোয়াতুল (২৮) নামে জেএমবির দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। 

এ সময় তাঁদের কাছ থেকে পাঁচটি ‘জিহাদি’ বই, দুটি ব্যাগ, বিভিন্ন ধরনের লিফলেট, চারটি ধারালো অস্ত্র ও ৩৭ হাজার ৫৯৩ টাকা উদ্ধার করা হয়। র‍্যাব কর্মকর্তা জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আতিকুর রহমান ওরফে মিলন তাঁদের জানিয়েছেন, তাঁর বাড়ি নীলফামারী জেলায়। তিনি ২০১৫ সালে সাভার কলেজে সমাজকর্ম বিভাগে স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষে ভর্তি হন। কিছু দিন ক্লাস করার পর থেকে পারিবারিক অভাব-অনটনের কারণে তাঁর লেখাপড়া বন্ধ হয়ে যায়। 

এরপর ২০১৬ সালের জানুয়ারি মাসে ফেসবুকের মাধ্যমে কুমিল্লার ফজলে রাব্বির (২০) সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। ফজলে রাব্বি নিজেকে সারোয়ার-তামিম গ্রুপের সদস্য হিসেবে পরিচয় দেন। নিজেদের মধ্যে তাঁরা যোগাযোগ করার জন্য নির্দিষ্ট একটি মোবাইল অ্যাপস ব্যবহার করতেন। গত জুলাই মাসের দিকে এই ফজলে রাব্বি মিলনকে আবদুর রহমান ওরফে সারোয়ার জাহান সংগঠনের এক বড় ভাইয়ের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন। 

গত ৮ অক্টোবর র‍্যাবের অভিযানে আবদুর রহমান ওরফে সারোয়ার জাহান মারা যাওয়ার পর তিনি জানতে পারেন যে তিনি জেএমবির একটি গ্রুপের প্রধান। র‍্যাব ৪-এর সিইও লুৎফুল কবির জানান, আবদুর রহমান বিভিন্ন সময় আতিকুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করে বিভিন্ন স্থানে অর্থ বহনের কাজ করিয়ে নিতেন। 

এই অর্থ বহন করে গাজীপুর ও টঙ্গীতে দিয়ে আসতে গিয়ে খাদেমুলের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। অপর দিকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মো. খাদেমুল ইসলাম ওরফে খাদেম ওরফে গাজোয়াতুল র‍্যাবকে জানান, তাঁর বাড়ি বরিশাল জেলায়। তিনি পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করেছেন। 

এরপর জীবন ধারণের জন্য ঢাকায় এসে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন। তিনি তুরাগ থানা এলাকার একটি অফিসে পিয়ন হিসেবে কাজ করছিলেন। ২০১৩ সালে তাঁর ছোট ভাই নাজমুল আজমপুর এলাকার একটি মসজিদে জুমার নামাজের পর দেখতে পান, কিছু মানুষ মাওলানা জসীম উদ্দিন রহমানির ওয়াজ শুনছিলেন। এরপর তিনি ওই ওয়াজ শুনে অনুপ্রাণিত হন। 

২০১৬ সালে তাঁর ছোট ভাই নাজমুলের সঙ্গে তাজুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তির পরিচয় হয়। এই তাজুল নাজমুলকে বিভিন্ন ধরনের ভিডিও দেখিয়ে সারোয়ার-তামিম গ্রুপ সম্পর্কে ধারণা দেন। এর পর থেকে তাজুল ও খাদেমুল দুজন মিলে বিভিন্ন জঙ্গি যারা ঘরবাড়ি ছেড়ে আসতেন তাদের আশ্রয় দেওয়ার দায়িত্ব পান। 

 সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে লুৎফুল কবির জানান, খাদেমুলকে গ্রেপ্তার করা হলেও তাজুল ও নাজমুলকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। তাঁদের গ্রেপ্তার করার চেষ্টা চলছে এবং গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
Share on Google Plus

About Unknown

0 comments:

Post a Comment

Thanks for your comments.