এরশাদকে পায়ে দড়ি দিয়ে রাখতে চায় সবাই




দুর্নীতির মামলা সচল হওয়ায় হতাশ জাতীয় পার্র্টির চেয়ারম্যান ও সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ। একে তিনি তাকে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা হিসেবে দেখছেন। এরশাদ বলেন, ‘এক মাসে আগে আমার বিরুদ্ধে আবার নতুন করে মামলা চালু করা হয়েছে। আসলে সবাই আমার পায়ে দড়ি দিয়ে রাখতে চায়।’


বুধবার সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির মিলনায়তনে জাতীয় পার্টির প্রতিনিধি সভায় দলের চেয়ারম্যান এসব কথা বলেন।

 আগামী ১ জানুয়ারি দলের মহাসমাবেশ উপলক্ষে দলটির ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখা এই সভার আয়োজন করেন।

 রাষ্ট্রপতি হিসেবে পাওয়া উপহার রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা না দেয়ার মামলায় ১৯৯২ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি বিচারিক আদালত তিন বছরের সাজা দিয়েছিল এরশাদকে। সেই দণ্ডের বিরুদ্ধে এরশাদের আপিল এতদিনও শুনানি হয়নি।

 সম্প্রতি উচ্চ আদালত আপিল গ্রহণ করে। দুর্নীতি মামলা সচল হওয়া প্রসঙ্গে এরশাদ, ‘এক মাসে আগে আমার বিরুদ্ধে আবার নতুন মামলা চালু হয়েছে। প্রতিটি সময় আমার শঙ্কায় কাটে। আসলে সবাই চায় এরশাদকে পায়ে দড়ি দিয়ে রাখতে। এ দড়ি ছিড়ে ফেলতে হবে।’

 ১৯৮৪ সালে সেনা প্রধান থাকাকালে ক্ষমতা দখল করেছিলেন এরশাদ। আর গণ আন্দোলনের মুখে ১৯৯০ সালের ডিসেম্বরে ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হন এরশাদ।

 ক্ষমতায় থাকাকালে গঠন করা দল জাতীয় পার্টি প্রতাপের সঙ্গে চললেও এরশাদ ক্ষমতা ছাড়ার পর তার দল ক্রমেই ক্ষয়িষ্ণু হচ্ছে।

 সেই স্মৃতি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘২৬ বছর আগে ক্ষমতা ছেড়েছি। যেদিন থেকে ক্ষমতা ছেড়েছি সেদিন থেকেই দু:খের সাগরে ভাসছি। কোন কূল-কিনারা পাইনি।’

 ঐক্যবদ্ধ জাতীয় পার্টি গড়ে তোলার আহবান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘একটি শক্তিশালী জাতীয় পার্টিই আমাকে দু:খের সাগর থেকে মুক্তি দিতে পারে।

কারণ দুবর্লের সঙ্গে কেউ হাত মিলায় না।’ আগামী ১ জানুয়ারি দলটির জাতীয় পার্টির মহাসমাবেশে বিপুল লোক সমাগম হবে উল্লেখ করে এরশাদ বলেন, ‘মহাসমাবেশে লক্ষ লক্ষ লোকের সমাগম ঘটিয়ে প্রমাণ করতে হবে জাতীয় পার্টি ফেলনা নয়। শক্তিশালী রাজনৈতিক দল।’

 জাতীয় পার্টি ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি আবু হোসেন বাবলার সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন দলটির প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী ফিরোজ রশিদ, শেখ সিরাজুল ইসলাম, এম ফয়সাল চিশতী প্রমুখ।
Share on Google Plus

About Unknown

0 comments:

Post a Comment

Thanks for your comments.