ই-মেইল কেলেঙ্কারি আলোচনায় হিলারি ক্লিনট


হিলারি ক্লিনটনের ই-মেইল কেলেঙ্কারি নতুন করে আলোচনায় আসায় রিপাবলিকানরা বেশ স্বস্তিতে আছেন। আজ ৪ নভেম্বর সকালে ওহাইও রিপাবলিকান পার্টির মুখপাত্র ব্রিটনি ওয়ার্নার সাংবাদিকদের বলেন, তাঁরা আশা করছেন এই আলোচনা আর কটা দিন জিইয়ে রাখতে পারলে নির্বাচনে তাঁদের ঠেকিয়ে রাখা কঠিন হবে। ওহাইওতে রিপাবলিকান পার্টির কার্যালয়ে ব্রিটনি ওয়ার্নার ২৫টি দেশ থেকে আসা সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন।


 তিনি বলেন, ১৯৬৪ সাল থেকে ওহাইওতে যিনি নির্বাচিত হয়েছেন, তিনিই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হয়েছেন। তিনটি বিতর্কে অনেকটা এগিয়ে থাকা হিলারি সবশেষ জরিপে পিছিয়ে পড়েছেন। ই–মেইল কেলেঙ্কারি নিয়ে লোকে কথা বলছে, পত্রিকার হেডলাইন হচ্ছে। এই আলোচনা অব্যাহত থাকলে রিপাবলিকান পার্টি সুবিধাজনক অবস্থানে থাকবে। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ব্রিটনি ওয়ার্নার বলেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প নানা কারণে বিতর্কিত হয়েছেন। বিশেষ করে নারীদের সম্পর্কে অবমাননাকর বক্তব্যের জন্য। নারী ভোটারদের দলে টানতে তাঁদের বেশ কষ্ট করতে হয়েছে বলেও তিনি স্বীকার করেন। তিনি আরও বলেন, ‘আমরা জনগণকে আশ্বস্ত করতে পেরেছি যে মি. ট্রাম্প যেটা বলছেন, রিপাবলিকান পার্টি তার সঙ্গে একমত নয়।

এ কথা স্বীকার করায় আমরা পিছপা হইনি।’ ট্রাম্প নির্বাচিত হওয়ার পর তাঁর অবস্থান থেকে ফিরে আসবেন কি না এমন প্রশ্নে ব্রিটনি বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলে তিনি বিজ্ঞ মানুষের সহযোগিতা পাবেন বলে আমরা মনে করি।’ তবে ব্রিটনি বলছেন, ট্রাম্প ওহাইওর ১০ লাখ নতুন ভোটারকে দলে টানতে পেরেছেন। ট্রাম্প তাঁদের নতুন কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এ ছাড়া হিলারি ক্লিনটন জঙ্গিগোষ্ঠী আইএস দমনে যথেষ্ট দক্ষতা দেখাতে পারেননি। রিপাবলিকানরা তাঁদের ভোটারদের এ দুটি বিষয়ে বোঝাতে সক্ষম হয়েছেন। তাঁরা বিশ্বাস করেন, ট্রাম্প যে আশা দিয়েছেন, সেটা ধরে রাখতে পারলে, আর হিলারির বিরুদ্ধে প্রচার চললে রিপাবলিকানরা জিতে যাবেন। এদিকে ওহাইও ডেমোক্রেটিক পার্টির চেয়ারম্যান ডেভিড পেপার তাঁর কার্যালয়ে লম্বা সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দেন ৩ নভেম্বর বিকেলে। তিনি বলেন, ডেমোক্র্যাটদের লক্ষ্য ট্রাম্পকে শুধু হারানো নয়। এমনভাবে হারানো, যেন আর কখনো রিপাবলিকানরা তাঁর ভাষায় অনুপযুক্ত, ভীতি জাগানিয়া ও নারীবিদ্বেষী ব্যক্তিকে মনোনয়ন দিতে না পারে।

 পেপার বলছিলেন, ‘ওহাইওর গভর্নর জন কেসেজ ট্রাম্পকে ভোট না দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। দলের ভেতরেই তিনি অজনপ্রিয়। শীর্ষ নেতাদের বড় অংশ তাঁর বিরুদ্ধে। তিনি যে আমেরিকার কথা বলছেন, সেই আমেরিকা ভয়ংকর। আপনি দেখুন হিলারি বলছেন, স্ট্রংগার টুগেদার। তিনি কাউকে বাদ দিয়ে দেশ চালানোর কথা বলছেন না। আমেরিকা কি একজন ভয়ংকর, নারীবিদ্বেষী, প্রতিক্রিয়াশীল ব্যক্তিকে নির্বাচিত করতে পারে?’ তবে এফবিআইয়ের সাম্প্রতিক ভূমিকা তাঁদের পক্ষে যায়নি বলে স্বীকার করেন ডেভিড পেপার।

 তিনি বলেন, তিনটি বিতর্কে এগিয়ে থাকার পর তাঁদের অনেকের মধ্যেই গা–ছাড়া ভাব এসেছিল। তাঁরা গা ঝাড়া দিয়ে উঠেছেন আবার। এত বিতর্কিত মন্তব্যের পরও ওহাইওতে কেন হিলারি ও ট্রাম্পের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হচ্ছে, এমন প্রশ্নে পেপার বলেন, ‘এ কথা সত্যি ট্রাম্প কিছু প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, যা অনেককে আকৃষ্ট করেছে। কিন্তু প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে তাঁর কোনো অভিজ্ঞতা বা ধারণা নেই। তিনি শুধু ফাঁকা বুলি আওড়ে যাচ্ছেন।
Share on Google Plus

About Unknown

0 comments:

Post a Comment

Thanks for your comments.