ইমাম মাহদীর আত্মপ্রকাশঃ ইমাম মাহদীর আত্মপ্রকাশ কিয়ামতের সর্বপ্রথম বড় আলামত। তিনি আগমণ করে এই উম্মাতের নের্তৃত্বের দায়িত্বভার গ্রহণ করবেন। ইসলাম ধর্মকে সংস্কার করবেন এবং ইসলামী শরীয়তের মাধ্যমে বিচার-ফয়সালা করবেন।
পৃথিবী হতে জুলুম-নির্যাতন দূর করে ন্যায়-ইনসাফ দ্বারা তা ভরে দিবেন। মুসলিম উম্মাহ তাঁর আমলে বিরাট কল্যাণের ভিতর থাকবে। নাম ও পরিচিতি: উনার নাম রাসূলুল্লাহ (সা) এর নামের অনুরূপ হবে । যেমন- মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ আল-হাসানী। বংশ পরম্পরায় হাসান বিন আলী (রা:) পর্যন্ত পৌছবে।
ইবনে মাসউদ (রা:) থেকে বর্ণিত, নবী কারীম (সা:) বলেন: পৃথিবী জীবন সায়াহ্নে যদি একটি মাত্র দিন অবশিষ্ট থাকে, তবে সেই দিনটিকে আল্লাহ্ দীর্ঘ করে আমার পরিবারস্থ একজন ব্যক্তিকে প্রেরণ করে ছাড়বেন, তাঁর নাম আমার নাম এবং তাঁর পিতার নাম আমার পিতার নাম সদৃশ হবে…[তিরমিযী, আবু দাউদ]ইবনে কাসির বলেনঃ “তিনি হলেন মুহাম্মাদ বিন আব্দুল্লাহ আল-ফাতেমী আল-হাসানী"।
তাঁর আগমণের স্থানঃ তিনি পূর্বের কোন একটি অঞ্চল থেকে প্রকাশিত হবেন। পূর্ব দিক বলতে মদীনা মুনাওয়ারা হতে পূর্বের দিক বুঝানো হয়েছে। নবী (সা) বলেনঃ “তোমাদের গুপ্তধনের নিকট তিনজন লোক ঝগড়া করবে। প্রত্যেকেই হবে খলীফার পুত্র। কেউ তা দখল করতে পারবেনা। অতঃপর পূর্বের দিক থেকে কালো পতাকাধারী একদল সৈনিক আসবে।
তারা ব্যাপক হত্যাকান্ড চালাবে... তোমরা যখন তাদেরকে দেখতে পাবে তখন তাদের নেতার হাতে বায়আত করবে। যদি বরফের উপর হামাগুড়ি দিয়ে উপস্থিত হতে হয়, তারপরেও তোমরা আসবে। কেননা তিনি হলেন আল্লাহর খলীফা মাহদী।" শিয়ারা ১২ ইমামে বিশ্বাসী। তারা বলে থাকে ১২তম ইমাম হবেন ইমাম মাহদি আর তাঁর জন্ম হয়ে গেছে 869 সালে। বলা হয়, তিনি আত্মগোপনে চলে যান আর ভবিষ্যতে আবার আসবেন আর মুসলিম জাতির নেতা হবেন।
অর্থাৎ তারা বিশ্বাস করে মাহদি ১২০০ বছর ধরে এখন বেঁচে আছেন। ব্যাপারটা যে অতিকল্পনা সেটা বুঝতে কষ্ট হয় না। এটা গুরুত্বপূর্ণ না, যে, নবীজীর ১২তম বংশধর মাহদি হবেন, বরং, এ ধারা থেকে মাহদি আসবেন এটাই বিশ্বাসযোগ্য। তবে সময় আসলে সবই পরিস্কার হয়ে যাবে। শিয়ারা এতাও দাবি করে মাহদি একটা গর্তে লুকিয়ে আছেন।
ইমাম ইবনে কাসির বলেনঃ “উল্লেখিত হাদীসে যে ধন-ভান্ডারের কথা বলা হয়েছে তা হল কা’বা ঘরের ধন-ভান্ডার। তিনজন খলীফার পুত্র তা দখল করার জন্য ঝগড়া করবে। কেউ তা দখল করতে পারবেনা। সর্বশেষে আখেরী যামানায় পূর্বের কোন একটি দেশ হতে মাহদী আগমণ করবেন। মূর্খ শিয়ারা সামেরার গর্ত হতে ইমাম মাহদী বের হওয়ার যে দাবী করে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। তারা আরো দাবী করে যে তিনি গর্তের মাঝে লুকায়িত আছেন। শিয়াদের একটি দল প্রতিদিন সে গর্তের কাছে দাঁড়িয়ে আপেক্ষা করে। এ ধরণের আরো অনেক হাস্যকর কাল্পনিক ঘটনা বর্ণিত আছে। এসমস্ত কথার পক্ষে কোন দলীল নেই; বরং কুরআন, হাদীছ এবং বিবেক বহির্ভূত কথা। তিনি আরো বলেনঃ পূর্বাঞ্চলের লোকেরা তাঁকে সাহায্য করবে এবং তাঁর শাসনকে সমর্থন করবে। তাঁরা কালো পতাকাধারী হবেন।
মোটকথা আখেরী যামানায় পূর্বদেশ হতে তাঁর বের হওয়া সত্য। কা’বা ঘরের পাশে তাঁর জন্যে বায়আত করা হবে।" মাহদী আগমণের রেফারেন্স: ইমাম মাহদীর আগমণের ব্যাপারে অনেক সহীহ হাদীস রয়েছে। কোন কোন হাদীছে প্রকাশ্যভাবে তাঁর নাম উল্লেখ আছে। আবার কোন কোন হাদীছে তাঁর গুণাগুণ উল্লেখিত হয়েছে। তাঁর আগমণ সত্য হওয়ার জন্য এ সমস্ত হাদীছই যথেষ্ট। ১) আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) নবী (সা) হতে বর্ণনা করেন, “আখেরী যামানায় আমার উম্মাতের ভিতরে মাহদীর আগমণ ঘটবে। তাঁর শাসনকালে আকাশ থেকে প্রচুর বৃষ্টিপাত হবে, যমিন প্রচুর ফসল উৎপন্ন করবে, তিনি মানুষের মাঝে সমানভাবে প্রচুর সম্পদ বিতরণ করবেন, গৃহপালিত পশুর সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে এবং উম্মাতে মুহাম্মাদীর সম্মান বৃদ্ধি পাবে।
তিনি সাত বছর কিংবা আট বছর জীবিত থাকবেন। ২) আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) হতে আরও বর্ণিত আছে, নবী (সা) বলেনঃ “আমি তোমাদেরকে মাহদীর আগমণ সম্পর্কে সুসংবাদ দিচ্ছি। মানুষেরা যখন মতবিরোধে লিপ্ত হবে তখন তিনি প্রেরিত হবেন। পৃথিবী হতে জুলুম-নির্যাতন দূর করে ন্যায়-ইনসাফ দ্বারা তা ভরে দিবেন। আকাশ-যমিনের সকল অধিবাসী তার উপর সন্তুষ্ট হবেন। তিনি মানুষের মাঝে সমানভাবে প্রচুর সম্পদ বিতরণ করবেন। ৩) নবী (সা) বলেনঃ “মাহদী আসবেন আমার বংশধর হতে।
তাঁর কপাল হবে উজ্জল এবং নাক হবে উঁচু। পৃথিবী হতে জুলুম-নির্যাতন দূর করে দিয়ে ন্যায়-ইনসাফ দ্বারা তা ভরে দিবেন। সাত বছর পর্যন্ত তিনি রাজত্ব করবেন। ৪) উম্মে সালামা (রাঃ) বলেনঃ “আমি রাসূল (সা)কে বলতে শুনেছিঃ মাহদীর আগমণ হবে আমার পরিবারের ফাতেমার বংশধর হতে।" ৫) জাবের (রাঃ) বলেনঃ রাসূল (সা) বলেছেনঃ ঈসা (আঃ) যখন অবতরণ করবেন তখন মুসলমানদের আমীর তাঁকে বলবেনঃ আসুন! আমাদের নামাযের ইমামতি করুন।

0 comments:
Post a Comment
Thanks for your comments.