মূল্য সংযোজন কর (মূসক) দিবস উপলক্ষে রাজধানীর পান্থপথে বসুন্ধরা সিটি শপিং কমপ্লেক্সের দোকানমালিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করল জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।
ব্যবসায়ীদের এখন আর এনবিআরে যেতে হবে না, এনবিআরই ব্যবসায়ীদের কাছে যাবে। ৯ ডিসেম্বর শুরু হওয়া মূসক সপ্তাহের শেষ দিন ছিল গতকাল বৃহস্পতিবার।
এদিন বসুন্ধরা সিটির দোকানমালিকদের সঙ্গে ওই মতবিনিময় সভায় এনবিআরের কর্মকর্তারা জানান, ২০১৭-১৮ অর্থবছর থেকে নতুন মূসক আইন বাস্তবায়িত হবে। ব্যবসায়ীরা তখন অনলাইনে মূসক জমা দেওয়া ও চালান নেওয়ার সুযোগ পাবেন।
অনলাইনে মূসক নিবন্ধন ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। ফলে মূসকসংক্রান্ত সব কাজ দোকানে বসেই শেষ করতে পারবেন দোকানমালিকেরা। মতবিনিময় সভায় নজিবুর রহমান আরও বলেন, মূসক সপ্তাহ ছিল সেবা সপ্তাহ। এর মূল উদ্দেশ্য ব্যবসায়ীদের সঙ্গে এনবিআরের সম্পর্ক সুদৃঢ় করা।
বাংলাদেশ এখন টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে কাজ শুরু করেছে। এর জন্য প্রয়োজন ঘনিষ্ঠ ও উন্নত অংশীদারত্ব। সরকার, ব্যবসায়ী ও নাগরিক সমাজ মিলে কাজ করলে কোনো কিছুই বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারবে না।
দোকানমালিকদের উদ্দেশে এনবিআরের চেয়ারম্যান বলেন, ‘আপনারা মূসকের হিসাব রাখবেন, ইলেকট্রনিক ক্যাশ রেজিস্ট্রার (ইসিআর) ব্যবহার করবেন। এনবিআর আপনাদের সকল সহযোগিতা করবে।’ এনবিআরকে স্বয়ংক্রিয় বা ডিজিটাল করা হচ্ছে বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ব্যবসায়ীরা এখন ঘরে বসেই সেবা নিতে পারবেন।
বাংলাদেশিরা বিদেশে গিয়ে কেনাকাটা করায় দেশের দোকানমালিকেরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বলে দাবি করেন বসুন্ধরা সিটির দোকান মালিক সমিতির সভাপতি এম এ হান্নান আজাদ। তিনি বলেন, ভারত গত ঈদুল ফিতরের আগে বাংলাদেশের প্রায় ৬০ হাজার নাগরিককে ভিসা দিয়েছে। এতে তাঁরা ভারতে গিয়ে কেনাকাটা করেছেন।
এনবিআরের চেয়ারম্যানের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনি আমাদের ব্যবসা দিন, আমরা কর দেব। আমাদের দুধমাখা ভাত যেন কাকে না খায়।’ এনবিআরের সদস্য (মূসক নীতি) জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, দেশের অনেক ব্যবসায়ীই নিয়মিত মূসক দেন না।
নাগরিক জীবনকে আরও সুন্দর করতে, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, চিকিৎসাসহ সেবা নিশ্চিত করতে সরকারের আরও রাজস্ব দরকার। সবাই মূসক দিলে এসব সেবা নিশ্চিত করা যাবে। এনবিআরের সদস্য (শুল্ক ও ভ্যাট প্রশাসন) রেজাউল হাসান বলেন, এনবিআর ব্যবসায়ীদের ওপর মূসক চাপিয়ে দেয়নি।
জনগণের কাছ থেকে মূসক আদায় করে তা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার দায়িত্ব ব্যবসায়ীদের দিয়েছে মহান সংসদ। তিনি বলেন, ‘মূসক কখনোই আপনাদের লাভের অংশ নয়।’ রেজাউল হাসান জানান, দোকানমালিকদের ন্যায্যমূল্যে ইসিআর দেবে এনবিআর। মার্চের মধ্যে এটি দেওয়ার ক্ষেত্রে সচেষ্ট হবে সংস্থাটি।
অনুষ্ঠানে এনবিআরের সদস্য (মূসক বাস্তবায়ন ও আইটি) সুলতান মো. ইকবাল, বসুন্ধরা গ্রুপের ঊর্ধ্বতন উপদেষ্টা টি আই এম লতিফুল হোসেন, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনার কাজী মো. মোস্তাফিজুর রহমান বক্তব্য দেন।
অনুষ্ঠান শেষে এনবিআরের চেয়ারম্যান বসুন্ধরা সিটির কয়েকটি দোকানে মূসক আদায়ের অবস্থা ঘুরে দেখেন। লিসতা, ইয়েলো, অলংকার নিকেতন জুয়েলার্স, আমিন জুয়েলার্স, খাবারের দোকান বিএফসি, স্টার সিনেপ্লেক্সের টিকিট কাউন্টারে গিয়ে তিনি ইসিআর ব্যবহার করা হচ্ছে কি না, কত টাকা মূসক হয়েছে ইত্যাদি পর্যবেক্ষণ করেন।
এ সময় তিনি মূসক আদায় ও হিসাব রাখার ক্ষেত্রে সমস্যা হচ্ছে কি না, তা জানতে চান দোকানমালিকদের কাছে।

0 comments:
Post a Comment
Thanks for your comments.