জিয়াউর রহমানের মাজারটি সরানোর চক্রান্তমূলক নীল নকশা করছে : রিজভী


বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ভোটারবিহীন অবৈধ সরকার শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মাজারটি সরানোর চক্রান্তমূলক নীল নকশা করছে।


কিন্তু জনগণ সরকারের এ নীল নকশা বাস্তবায়ন করতে দেবে না। জাতীয়তাবাদী শক্তি ষড়যন্ত্র রুখে দেবে। গতকাল সকালে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, মাজার সরানোর ষড়যন্ত্র বাস্তবায়ন করা হলে তা সরকার নিজেদের পতনে স্বেচ্ছায় স্বাক্ষর করবে। দেশে আনা নকশাটি আসল কি না তা নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেন রিজভী। নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এ সংবাদ সম্মেলন হয়।

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, শামা ওবায়েদ, কেন্দ্রীয় নেতা গৌতম চক্রবর্তী, এ বি এম মোশাররফ হোসেন, মুনির হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

রিজভী বলেন, বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, লুই আই কানের নকশা বাস্তবায়ন কোনোভাবে সম্ভব নয়। তবু এ ভোটারবিহীন অবৈধ সরকার কেবল মুক্তিযুদ্ধের ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মাজারটি সরানোর চক্রান্তের নীলনকশা করছে। কিন্তু আমরা দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলতে চাই, জনগণ সরকারের এ নীলনকশা বাস্তবায়ন করতে দেবে না।

জাতীয়তাবাদী শক্তি শহীদ জিয়াউর রহমানের মাজার সরানোর ষড়যন্ত্র সব শক্তি দিয়ে রুখে দেবে। মাজার নিয়ে ষড়যন্ত্রে সরকার নিজেদের পতনে স্বেচ্ছায় স্বাক্ষর করবে। জিয়ার মাজার সরানোর ষড়যন্ত্র যেকোনো মূল্যে প্রতিরোধ করারও ঘোষণা দেন তিনি। সরকার মাজার সরানোর উদ্যোগ নিলে কর্মসূচি কী হতে পারে? জানতে চাইলে রিজভী বলেন, এখন যে ষড়যন্ত্রের আভাস পাচ্ছি তাই আমরা বলছি। ষড়যন্ত্র বাস্তবায়ন করলে তখন আমাদের দলের নীতিনির্ধারকেরা কর্মসূচি ঠিক করবেন। বিএনপির এ নেতা বলেন, সরকার প্রায় চার লাখ মার্কিন ডলার অর্থাৎ তিন কোটি ২০ লাখ টাকা ব্যয়ে যুক্তরাষ্ট্র থেকে জাতীয় সংসদ ভবনের মূল নকশা সংগ্রহ করেছে। এটাই যে লুই আই কানের তৈরি মূল নকশা তা আমরা জানি না, জনগণও জানে না।

মূল নকশার বাইরে জাতীয় সংসদের স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের বাসভবন, বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্র, ন্যাম ভবন, সংসদ ভবনের চার দিকে লোহার সীমানা প্রাচীর, র্যাবের কার্যালয়, স্কুলসহ অনেক স্থাপনা তৈরি হয়েছে বলে জানান তিনি। রিজভী বলেন, মেট্রো রেল প্রকল্পও লুই আই কানের নকশার ভেতর দিয়ে স্থাপন করা হবে বলে কাযর্ক্রম শুরু হয়েছে। এটা দেশবাসীর অজানা নয় যে, মূল নকশাবহির্ভূত স্থাপনা অপসারণের নামে সরকারের মূল লক্ষ্যই হচ্ছে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মাজার কমপ্লেক্স এখান থেকে উচ্ছেদ করা।

তিনি আরো বলেন, পাকিস্তানের নাম শুনলেই বর্তমান সরকারের গা রি রি করে ওঠে। অথচ সেই পাকিস্তানের জাতীয় পতাকার আদলে তৈরি জাতীয় সংসদ ও এর সংলগ্ন পরিসর। সুতরাং সরকার এ বিষয়টি এড়িয়ে যায়। আসলে প্রধানমন্ত্রীর টার্গেটই হচ্ছে জিয়াউর রহমানের মাজার। লুই আইকানের নকশা নিয়ে সরকারের দৌড়ঝাঁপ প্রধানমন্ত্রীর হিংসাশ্রয়ী আচরণেরই বহিঃপ্রকাশ।

তিনি দেশকে এক অশুভ পরিণতির দিকে ঠেলে দিতে চান। দেশের অভ্যন্তরে বিভেদ বিভাজনই যেন তার একমাত্র রাজনৈতিক কর্মসূচি। মেরুকরণের বিপজ্জনক খেলায় গোটা জাতিকে তিনি ধ্বংসের কিনারায় পৌঁছে দিয়েছেন। এ অরাজক অমানিশা এদেশের জনগণ দীর্ঘস্থায়ী হতে দেবে না। এ দেশের দেশপ্রেমিক জাতীয়তাবাদী শক্তি দেশমাতৃকার শ্রেষ্ঠ সন্তান শহীদ জিয়াউর রহমানের মাজার সরানোর ষড়যন্ত্র সব শক্তি দিয়ে রুখে দেবে।
Share on Google Plus

About Unknown

0 comments:

Post a Comment

Thanks for your comments.