দাউদ মার্চেন্টের ব্যাপারে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল জানিয়েছেন


দাউদ মার্চেন্টের ব্যাপারে সরকারের কাছে আর কোনো তথ্য নেই বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল। আজ সোমবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ কথা বলেন। দাউদ মার্চেন্টের ব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘তাঁকে পুশব্যাক বা পুশইন করা হয়নি। অবৈধ অনুপ্রবেশের দায়ে তাঁর সাজার মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে।


ফলে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এখন তিনি কোথায় কী অবস্থায় আছেন সেটা তাঁর এখতিয়ার। এই ব্যাপারে সরকারের কাছে আর কোনো তথ্য নেই। তবে ভারতের এই ফেরারি আসামিকে সে দেশের কর্তৃপক্ষের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে কি না- সে বিষয়টি স্পষ্ট করেননি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল। এর আগে গত ৩ নভেম্বর ৫৪ ধারা থেকে দাউদ মার্চেন্টের অব্যাহতি দেওয়া হয়েছিল। বলিউডের চলচ্চিত্র প্রযোজক ও ব্যবসায়ী গুলশান কুমার হত্যা মামলার যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি আবদুর রউফ ওরফে দাউদ মার্চেন্টকে ৫৪ ধারার অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন বাংলাদেশের আদালত।

এর আগে ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিমের আদালতে গোয়েন্দা পুলিশের পক্ষে উপপরিদর্শক (এসআই) গোলাম রসুল অব্যাহতির আবেদন করেন। সেই আবেদনটি আজ বিচারক মঞ্জুর করলে দাউদ মার্চেন্ট অব্যাহতি পান। দাউদ মার্চেন্ট দুবাইয়ে থাকা ভারতীয় ‘মাফিয়া ডন’ দাউদ ইব্রাহিমের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত। অবৈধভাবে বাংলাদেশে ঢুকে ধরা পরার পর পাঁচ বছর ধরে কারাগারে ছিলেন তিনি। মুম্বাইয়ের সংগীত প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান টি-সিরিজের মালিক গুলশান কুমারকে ১৯৯৭ সালের ১২ আগস্ট আন্ধেরি এলাকার একটি মন্দির থেকে বেরিয়ে আসার সময় গুলি চালিয়ে হত্যা করা হয়।

এ হত্যা মামলায় সন্দেহভাজন ভাড়াটে খুনি দাউদ মার্চেন্টকে গ্রেপ্তারের পর ২০০২ সালে তাঁকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ দেন ভারতের একটি আদালত। তবে এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন দাউদ। পরে ২০০৯ সালে ১৪ দিনের প্যারোলে মুক্তি পাওয়ার পর পালিয়ে যান তিনি। ওই বছরের ২৮ মে ভারত সীমান্তবর্তী ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে এক সহযোগীসহ দাউদ মার্চেন্টকে গ্রেপ্তার করে বাংলাদেশের পুলিশ। পাসপোর্ট আইনে একটি মামলা হয় তাঁর বিরুদ্ধে।

সে সময় পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, দাউদ অবৈধভাবে বাংলাদেশে ঢুকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় অবস্থান করছিলেন। এরপর ২০১৪ সালের ২৯ নভেম্বর গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগার থেকে জামিনে মুক্ত হন দাউদ। তবে সেদিনই গাজীপুর থেকে তাঁকে আবারও গ্রেপ্তার করা হয়। এখন পর্যন্ত তিনি বাংলাদেশের কারাগারেই বন্দি আছেন।

তবে পুলিশের করা অব্যাহতির আবেদন আদালত আমলে নিলে দাউদ মার্চেন্টের মুক্তিতে আর কোনো বাধা থাকবে না। ৫৪ ধারা অনুযায়ী, এক বছরের মধ্যে পুলিশ অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কোনো অপরাধ প্রমাণ করতে না পারলে আইন অনুযায়ী ওই ব্যক্তিকে মামলা থেকে অব্যাহতি দিতে আবেদন করে পুলিশ।
Share on Google Plus

About Unknown

0 comments:

Post a Comment

Thanks for your comments.