নতুন জাতীয়করণ করা সরকারি কলেজের শিক্ষকদের শিক্ষা ক্যাডারে অন্তর্ভুক্ত না করার দাবি জানিয়েছে বিসিএস সাধারণ শিক্ষা সমিতি। জাতীয় প্রেস ক্লাবে রোববার এক সংবাদ সম্মেলনে সরকারি কলেজশিক্ষকদের সংগঠনটির মহাসচিব শাহেদুল খবির চৌধুরী বলেন, আমরা দাবি জানাচ্ছি, বিসিএসে উত্তীর্ণ ছাড়া অন্য কোনো পথে আসা কাউকে ক্যাডারভুক্ত করা যাবে না।
জাতীয়করণকৃত কলেজের শিক্ষকরা নন-ক্যাডার শিক্ষক হিসেবে বিবেচিত হবেন। উপজেলা পর্যায়ে বেসরকারি কলেজ জাতীয়করণ সরকারের গণমুখী উদ্যোগ বলে অভিহিত করেন তিনি। বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সরকারিকরণের জন্য সুনির্দিষ্ট নীতিমালা থাকা জরুরি।
বিসিএস ক্যাডার সদস্যদের সকল সুবিধা অক্ষুণ্ন রেখে জাতীয়করণকৃত শিক্ষকদের জন্য পৃথক পরিচালনা, নিয়োগ, জ্যেষ্ঠতা ও পদোন্নতির নীতিমালা প্রণয়ন করতে হবে।” যেসব উপজেলায় সরকারি স্কুল-কলেজ নেই সেখানে একটি করে স্কুল-কলেজ জাতীয়করণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত জুলাই মাসে ঘোষণা দেন। এর ফলে ৩২৫টি বেসরকারি স্কুল এবং ৩১৫টি কলেজ জাতীয়করণ হওয়ার কথা। শাহেদুল বলেন, ৩১৫টি বেসরকারি কলেজের প্রায় ২০ হাজার শিক্ষক ক্যাডারভুক্ত হলে বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের নতুন প্রজন্মের শিক্ষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন এবং এ ক্যাডার কোনোভাবেই মেধাবীদের আকর্ষণ করতে পারবে না।
জাতীয়করণকৃত কলেজের শিক্ষকরা অন্য কলজে বদলি হতে পারবেন না - বেসরকারি কলেজ জাতীয়করণে প্রধানমন্ত্রীর এই অনুশাসন স্মরণ করিয়ে দিয়ে শাহেদুল বলেন, এটি জাতীয়করণকৃত শিক্ষকদের ক্যাডারভুক্ত না হওয়ার বার্তা বহন করে।” জাতীয়করণের জন্য ঘোষিত কলেজের শিক্ষকদের একাংশ নিজেদের বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারভুক্ত করার দাবি তুলেছেন, মামলা করার হুমকিও দিচ্ছেন বলে জানান তিনি।
এটা সরকারের উদ্যোগকে বিতর্কিত করছে। কারণ সরকার কখনই তাদের ক্যাডারভুক্ত করার কথা বলেনি।” জাতীয়করণ হওয়া কলেজের শিক্ষকরা ক্যাডারভুক্ত হতে চাইলে তাদের মেধা, যোগ্যতা ও দক্ষতা প্রশ্নের মুখে পড়বে জানিয়ে শাহেদুল বলেন, তাদের অধিকাংশই বিসিএসে অংশ নিয়ে অনুত্তীর্ণ হয়েছেন, অনেকেই প্রিলিমিনারিতেই বাদ পড়েছেন। জাতীয়করণ হওয়া কলেজে শিক্ষকদের ক্যাডারভুক্ত করা হলে বিভিন্ন ‘সংঘর্ষ’ লেগে থাকবে বলে মত দেন বিসিএস সাধারণ শিক্ষা সমিতির সভাপতি আই কে সেলিম উল্লাহ খোন্দকার।
জাতীয়করণ করা হচ্ছে কিন্তু বিধিমালা করা হয়নি। এজন্য কারা দায়ী তা নিয়ে সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ে আমরা কথা বলব।
কলেজ সরকারিকরণ প্রেক্ষাপট
আশির দশকে বেসরকারি কলেজগুলো জাতীয়করণ করতে শুরু করে সরকার। আত্তীকরণ বিধিমালা ১৯৮১ অনুযায়ী, জাতীয়করণ হওয়া কলেজের শিক্ষকদের ক্যাডার পদে আসার কথা না থাকলেও তাদের ওই পদেই তাদের পদায়ন করা হয়। এতে শিক্ষা ক্যাডারে সরাসরি নিয়োগপ্রাপ্তরা জ্যেষ্ঠতা হারাতে শুরু করেন, পদোন্নতি পিছিয়ে যায়। এনিয়ে জটিলতার পর বিষয়টি আদালতে গড়ালে শিক্ষা ক্যাডারে দীর্ঘদিন পদোন্নতি বন্ধ থাকে। ১৯৯৭ সালে ১৮টি মহিলা কলেজ নতুন করে জাতীয়করণের পর ওইসব কলেজের শিক্ষকদের নিয়ে ফের জটিলতা দেখা দেয়। এরপর সরকার ২০০০ সালে নতুন বিধি প্রণয়ন করে।
ওই বিধিতে বলা হয়, আত্তীকরণকৃত শিক্ষকরা কোনোভাবেই বিসিএস ক্যাডারে সরাসরি নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের জ্যেষ্ঠতা ক্ষুণ্ন করতে পারবে না। বন্ধ থাকা শিক্ষা ক্যাডারে পদোন্নতি চালু করতে বিসিএস শিক্ষা সমিতি, আত্তীকরণকৃত শিক্ষকদের সংগঠন এবং সরকার ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে সমঝোতা আসে- জাতীয়কণকৃত শিক্ষকদের জন্য স্বতন্ত্র ও পৃথক বিধি ছাড়া ভবিষ্যতে আর কোনো বেসরকারি কলেজ জাতীয়করণ করা হবে না।
এরপর ক্যাডারভুক্ত হন ১৮টি মহিলা কলেজের শিক্ষকরা। বেসরকারি কলেজ শিক্ষকদের জাতীয়করণে স্বতন্ত্র ও পৃথক বিধি প্রণয়নে ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে যে সমঝোতা হয়েছিল তা আর আলোর মুখ দেখেনি। ২৮টি ক্যাডারে সরাসরি নিয়োগ দেয় সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি)।
এরমধ্যে বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডার একটি। শিক্ষা ক্যাডারে নিয়োগপ্রাপ্তরা বিভিন্ন সরকারি কলেজে শিক্ষকতা করেন। শিক্ষা প্রশাসনের বিভিন্ন পদেও নিয়োগ পান তারা।

0 comments:
Post a Comment
Thanks for your comments.