জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলের পদ হারাল রাশিয়া


জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলের পদ হারাল রাশিয়া। সিরিয়ার বিদ্রোহী অধ্যুষিত আলেপ্পো শহরে সরকারি বাহিনীর সমর্থনে ‘নির্বিচার’ হামলার কারণে রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ আনা হচ্ছিল। এমন প্রেক্ষাপটেই জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিল থেকে দেশটি বাদ পড়ল।


 জাতিসংঘের ১৯৩ সদস্যের সাধারণ পরিষদের গত শুক্রবারের সভায় মানবাধিকার কাউন্সিলের সদস্য বেছে নিতে নির্বাচন হয়। কাউন্সিলের ৪৭ সদস্যের মধ্যে এদিন ১৪টি দেশ নির্বাচিত হয়। ১১২ ভোট পাওয়া রাশিয়া হেরে যায় হাঙ্গেরি ও ক্রোয়েশিয়ার কাছে। নিউইয়র্কভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচের জাতিসংঘে নিযুক্ত উপপরিচালক অক্ষয় কুমার বলেন, মানবাধিকার নিয়ে কাজ করা ৮৭টিরও বেশি সংগঠন রাশিয়ার সদস্যপদের ব্যাপারে আপত্তি জানিয়েছিল। অক্ষয় কুমার বলেন, ‘আলেপ্পোতে যা ঘটছে, আজ ভোট দেওয়ার সময় ভোটদাতাদের মনে তার প্রভাব পড়বে না, তা কল্পনা করা কঠিন।’ তিনি আরও বলেন, ‘এটি একটি ঐতিহাসিক প্রত্যাখ্যান।’

 সিরিয়ার আলেপ্পোর পূর্বাঞ্চলে যে মানবিক সংকট চলছে, তার অবস্থা ক্রমে আরও খারাপ হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যকার যুদ্ধবিরতির চুক্তি ভেঙে যাওয়ায় এবং প্রেসিডেন্ট বাশারের অনুগত বাহিনী আলেপ্পোতে বড় ধরনের হামলা শুরু করায় এমন অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। দুই বাহিনীর সংঘর্ষের মধ্যে আলেপ্পোর প্রায় ২ লাখ ৭৫ হাজার মানুষ কার্যত আটকা পড়েছে।

 এ পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের নেতারা রাশিয়ার বিরুদ্ধে সম্ভাব্য নিষেধাজ্ঞা আরোপের হুমকি দিয়েছেন। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি বলেছেন, সম্ভাব্য যুদ্ধাপরাধ তদন্তের একটি আদেশ জারি করা হতে পারে। তবে জাতিসংঘে রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত ভিতালি চুরকিন মানবাধিকার কাউন্সিল থেকে বাদ পড়ার বিষয়টিকে হালকা করে দেখানোর চেষ্টা করেন। তিনি বলেন, ‘ক্রোয়েশিয়া ও হাঙ্গেরির ভাগ্য ভালো। কারণ তারা খুব বড় দেশ নয় এবং আন্তর্জাতিক কূটনীতির হাওয়া তাদের গায়ে তেমন লাগে না। রাশিয়া অতীতেও এ কাউন্সিলে ছিল। আমি নিশ্চিত যে, পরেরবার দেশটি জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলের সদস্যপদ ফিরে পাবে।’
Share on Google Plus

About Unknown

0 comments:

Post a Comment

Thanks for your comments.