খাদ্যমন্ত্রীর হুঁশিয়ারি : অনিয়ম করলেই কঠোর ব্যবস্থা


১০ টাকা কেজি দরে চাল বিক্রি কর্মসূচিতে কেউ অনিয়ম করলেই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম। তিনি বলেছেন, এই কর্মসূচিকে যেকোনো মূল্যে বিতর্কের ঊর্ধ্বে রাখা হবে।

আজ বুধবার সকালে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে ‘নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩ বাস্তবায়নে জনসচেতনতা’ শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে খাদ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন। চট্টগ্রাম বিভাগীয় প্রশাসন ও জেলা প্রশাসন যৌথভাবে এ কর্মশালার আয়োজন করে। খাদ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এ কর্মসূচির বিষয়ে কিছু কিছু জায়গায় অনিয়মের অভিযোগ এসেছে।

আমাদের লোকেরাই এসব অনিয়ম করেছে কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সরকারদলীয় চেয়ারম্যান, মেম্বার, ডিলার কাউকে ছাড় দেওয়া হয়নি।’ ১০ টাকা কেজি দরে চাল বিক্রির কর্মসূচি জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে সমাদৃত হয়েছে উল্লেখ করে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, ৫০ লাখ দরিদ্র মানুষ এই কর্মসূচির আওতায় চাল পাবে। এত সুন্দর কর্মসূচিকে কোনোভাবেই বিতর্কিত হতে দেওয়া যাবে না। অনিয়মের অভিযোগে দলীয় লোকজনকেও গ্রেপ্তার করতে কুণ্ঠাবোধ করা হয়নি। এ পর্যন্ত ৬২ জনের ডিলারশিপ বাতিল করা হয়েছে।

খাদ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ এখন খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে গবেষণা করে খাদ্য উৎপাদন করা হচ্ছে। এখন সরকারের লক্ষ্য, সবার হাতে নিরাপদ খাদ্য তুলে দেওয়া। নিরাপদ খাদ্য পাওয়া সবার সাংবিধানিক অধিকার। খাদ্য উৎপাদন থেকে শুরু করে খাবার টেবিল পর্যন্ত খাবার যাতে নিরাপদ থাকে, সেটি নিশ্চিত করা হবে এ জন্য ২০১৩ সালে বিভিন্ন উন্নত দেশের আদলে আওয়ামী লীগ সরকার খাদ্যনিরাপত্তা আইন প্রণয়ন করেছে।

চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার মো. রুহুল আমীনের সভাপতিত্বে কর্মশালায় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন খাদ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মো. আবদুল ওয়াদুদ দারা, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন, নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মাহফুজুল হক, জেলা প্রশাসক সামসুল আরেফিন প্রমুখ।

নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মাহফুজুল হক বলেন, যেভাবেই হোক আইনটি বাস্তবায়ন করে খাদ্য ভেজালমুক্ত করতে হবে। আইন বাস্তবায়নের জন্য প্রচারণাকে জোর দেওয়া হয়েছে। খাদ্য আদালত গঠন করা হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান জোরদার করা হয়েছে। চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার মো. রুহুল আমীন বলেন, খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করলেও এখনো খাবারকে পুরোপুরি নিরাপদ করা যায়নি।

অনেক ক্ষেত্রেই ফসল ও খাদ্য উৎপাদনে মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর রাসায়নিক ও কীটনাশক ব্যবহার করা হচ্ছে। এটি বন্ধ করতে খাদ্য উৎপাদনকারী থেকে শুরু করে ভোক্তা সবাইকে সচেতন করতে হবে।
Share on Google Plus

About Unknown

0 comments:

Post a Comment

Thanks for your comments.