গ্রেপ্তার পুলিশের দুই সদস্য ছিনতাই করে


এক ডিম ব্যবসায়ীর কাছ থেকে টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগে পুলিশের দুই কনস্টেবলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার ভোরে রাজধানীর সার্ক ফোয়ারা মোড়ের কাছে টাকা ছিনতাইকালে পুলিশের এক সদস্যকে আটক করা হয়।


পরে অপরজনকে কর্মস্থল থেকে আটক করা হয়। আটক দুজন হলেন ঢাকা মহানগর ট্রাফিক পুলিশের (উত্তর) গুলশান জোনের কনস্টেবল লতিফুজ্জামান ও রাজেকুল খন্দকার। শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবুবকর সিদ্দিক প্রথম আলোকে বলেন, ছিনতাইয়ের সময় লতিফুজ্জামানকে আটক করে ভুক্তভোগী ব্যক্তিরা পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন।

পরে দুপুরের দিকে রাজেকুলকে ট্রাফিক পুলিশের উত্তরার কার্যালয় থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। লতিফ জিজ্ঞাসাবাদে ছিনতাইয়ের কথা স্বীকার করলেও রাজেকুল স্বীকার করেননি। ঘটনার সময় ব্যবহার করা মোটরসাইকেলটি জব্দ করা হয়েছে। টাকা উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। ছিনতাইয়ের ঘটনায় ডিম ব্যবসায়ী আবদুল বাসের মামলা করেছেন বলে জানান ওসি।

ছিনতাইয়ের শিকার আবদুল বাসের প্রথম আলোকে বলেন, লালবাগ কেল্লার মোড় এলাকায় ডিমের চালান দিয়ে ভ্যানে তেজগাঁও স্টেশন রোডে তাঁর ডিমের আড়ত শাহ আলী ট্রেডার্সে ফিরছিলেন তিনি। ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে সার্ক ফোয়ারা মোড়ের কাছে এলে উল্টো পথে আসা একটি মোটরসাইকেলে (ঢাকা মেট্রো ল ২৭-৪৭৪৩) আসা দুই আরোহী তাঁর পথরোধ করেন। মোটরসাইকেলের নম্বর প্লেটের জায়গায় ইংরেজিতে ‘পুলিশ’ লেখা।

আরোহী দুজনের পরনে পুলিশের পোশাক থাকলেও নেমপ্লেট ছিল না। ডিম ব্যবসায়ী বাসের বলেন, মোটরসাইকেল আরোহীদের একজন ভ্যানে কী আছে তা ভ্যানচালকের কাছে জানতে চান। জবাবে ভ্যানচালক বলেন, ডিম রাখার ২৪০টি খালি ঝুড়ি আছে। এরপর একজন তাঁকে (বাসের) ভ্যান থেকে নামতে বলেন। কাছে গেলে বলেন, পকেট ফোলা কেন? গাঁজা আছে? জবাবে তিনি চা-সিগারেটও খান না বলে জানান। তখন ওই ব্যক্তি তাঁর পকেটের জিনিসপত্র বের করে দিতে বললে তিনি পকেট থেকে মুঠোফোন এবং ৪৪ হাজার টাকা বের করে দেন।

টাকা নিয়েই মোটরসাইকেল চলতে শুরু করলে তিনি একজনকে জাপটে ধরে ফেলেন। অন্যজন দৌড়ে পালিয়ে যান। এ সময় সার্ক ফোয়ারা মোড়ে পুলিশের একটি টহল গাড়ি এগিয়ে এলে আটক ব্যক্তিকে শাহবাগ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. রইস হোসেনের কাছে সোপর্দ করা হয়। শাহবাগ থানায় নিয়ে লতিফুজ্জামানকে প্রথমে থানার পরিদর্শক (তদন্ত) জাফর আলী বিশ্বাসের কক্ষে রাখা হয়। পরে তাঁকে থানাহাজতে নেওয়া হয়। তেজগাঁও ডিম ব্যবসায়ী বহুমুখী সমবায় সমিতির উপদেষ্টা মাসুম খান বলেন, আগে ট্রাক নিয়ে এসে ডিমের চালান ছিনতাই হতো।

বছর খানেক ধরে পুলিশের পোশাকধারী ব্যক্তিরা ডিম ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে টাকা ছিনতাই করছেন। তাঁদের ধারণা ছিল, ছিনতাইকারীরা পুলিশের মতো পোশাক পরে এসব ঘটনা ঘটাচ্ছে। কিন্তু এবারই একজনকে আটক করে দেখা গেল, তিনি পুলিশেরই সদস্য। পুলিশের রমনা জোনের সহকারী কমিশনার ইহসানুল ফিরদাউস সাংবাদিকদের বলেন, অভিযুক্ত দুজনের বিরুদ্ধে ক্রিমিনাল প্রসিডিউর অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে তাঁদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থাও নেওয়া হবে।
Share on Google Plus

About Unknown

0 comments:

Post a Comment

Thanks for your comments.