কিবরিয়া হত্যার ঘটনায় বিস্ফোরক আইনের মামলায় সিলেট সিটি করপোরেশনের বরখাস্ত মেয়র আরিফুল হককে জামিন দিয়েছে হাই কোর্ট।
রোববার বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ দস্তগীর হোসেন ও বিচারপতি মো. আতাউর রহমান খানের বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ড. মো. বশিরউল্লাহ।আরিফুলের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন
ওই হত্যার ঘটনায় দুই মামলাতেই জামিন পাওয়ায় আরিফুলের মুক্তিতে আর বাধা নেই বলে তার ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন জানিয়েছেন। “কিবরিয়া হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তার বিরুদ্ধে হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে দু’টি মামলা রয়েছে। হত্যা মামলায় তিনি আগেই জামিন পেয়েছেন। বিস্ফোরক আইনে হওয়া মামলায় আজ তার জামিন হয়েছে। ফলে তার মুক্তিতে আপাতত কোনো বাধা নেই।” অন্যদিকে হাই কোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করার কথা জানিয়েছেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ড. মো. বশিরউল্লাহ।
তিনি বলেন, “আপিল আবেদনের নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তিনি জামিনে থাকবেন। হাই কোর্টের এ জামিন আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করবে রাষ্ট্রপক্ষ।” গত ৬ সেপেটম্বর হত্যা মামলায় হাই কোর্ট থেকে জামিন পান আরিফুল। পরে জামিন স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষ আবেদন করলে ৯ সেপেটম্বর আপিল বিভাগ তা খারিজ করে দিয়ে জামিন বহাল রাখে। বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময়ে ২০০৫ সালের ২৭ জানুয়ারি হবিগঞ্জ সদরের বৈদ্যেরবাজারে এক জনসভা শেষে বের হওয়ার পথে গ্রেনেড হামলার শিকার হন সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়া। ঢাকা নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। ঘটনার দিন মধ্যরাতের পর হবিগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল মজিদ খান হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে দু’টি মামলা করেন। প্রথমে সিআইডির এএসপি মুন্সি আতিকুর রহমান মামলাটি তদন্ত করে ১০ জনের বিরুদ্ধে ওই বছরের ২০ মার্চ অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
শাহ এ এম এস কিবরিয়া (ফাইল ছবি) শাহ এ এম এস কিবরিয়া (ফাইল ছবি) এরপর সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে আদালতের নির্দেশে সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার রফিকুল ইসলাম মামলার অধিকতর তদন্ত করে ২০১১ সালের ২০ জুন আরও ১৪ জনকে আসামি করে অভিযোগপত্র দেন, যাতে পুরনো আসামিদেরও রাখা হয়। কিন্তু ২০১১ সালের ২৮ জুন কিবরিয়ার স্ত্রী আসমা কিবরিয়া অভিযোগপত্রের ওপর হবিগঞ্জের বিচারিক আদালতে নারাজি আবেদন করেন। ২০১২ সালের ৫ জানুয়ারি নারাজি আবেদন গ্রহণ করে সিলেটের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দেয়।
এ আদেশের প্রেক্ষিতে সিআইডির এএসপি মেহেরুন নেছা ২০১৪ সালের ১০ ডিসেম্বর সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী, হবিগঞ্জ পৌরসভার মেয়র জি কে গউছ এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরীসহ ১১ জনের নাম যোগ করে সংশোধিত সম্পূরক অভিযোগপত্র দেয়। নতুনদের নিয়ে মামলায় আসামির সংখ্যা দাঁড়ায় ৩৫ জনে। এরপর ২০১৪ সালের ২১ ডিসেম্বর ওই ১১ জনকে গ্রেপ্তারে পরোয়ানা জারি করে আদালত। পরোয়ানা জারির পর একই বছরের ৩০ ডিসেম্বর আরিফুল আদালতে আত্মসমর্পণ করলে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। এর মধ্যে মাকে দেখতে একবার তিনি ১৫ দিনের জন্য জামিন পেয়েছিলেন।

0 comments:
Post a Comment
Thanks for your comments.