কারাগারে আটক বিএনপি নেতাকর্মীর মৃত্যুকে রহস্যজনক বলে মনে করেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।
গণমাধ্যমে গতকাল শনিবার পাঠানো এক বিবৃতিতে খালেদা জিয়া এমন মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, সরকারের দুঃশাসনের করালগ্রাসে আমাদের নেতাকর্মী প্রায়শই মৃত্যুর মুখে পতিত হচ্ছেন।
এটি রহস্যজনক, এজন্য সরকারি নিপীড়নের পাশাপাশি অসুস্থ বিএনপি নেতাকর্মীর চিকিৎসায় কারা কর্তৃপক্ষের চরম অবহেলা ও উদাসীনতাই দায়ী। গতকাল শনিবার কারাগারে গাইবান্ধা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক গউসুল আজম ডলার ইন্তেকাল করেছেন।
সে সম্পর্কে খালেদা জিয়া বলেন, কারা কর্তৃপক্ষের চরম অবহেলা ও উদাসীনতার কারণেই গউসুল আজম ডলারের মৃত্যু হয়েছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বলেন, কারাগারে গউসুল আজম ডলারের মৃত্যু বেদনাদায়ক। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জাতীয়তাবাদী দর্শনে বিশ্বাসী ও বলিষ্ঠ সংগঠক মরহুম গউসুল আজম ডলার মূলত বহুদলীয় গণতন্ত্র ও দেশীয় স্বাধীনতা সুরক্ষার মহান ব্রত নিয়ে রাজনীতি করতেন আর এ কারণেই জাতীয়তাবাদী চেতনায় বিশ্বাসীদের কাছে তিনি একজন জনপ্রিয় রাজনীতিক হিসেবে অত্যন্ত সুপরিচিত ছিলেন।
বিএনপি নেতাকর্মীদের মতো আমিও গভীরভাবে শোকাহত ও মর্মাহত। গউসুল আজম ডলারের সুযোগ্য নেতৃত্বে গাইবান্ধা জেলা বিএনপি তৃণমূল পর্যায়ে শক্তিশালী ও গতিশীল হয়েছিল। মরহুম গউসুল আজম ডলার মানুষের মৌলিক ও গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ছাত্রজীবন থেকেই সব স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে আন্দোলন ও লড়াই সংগ্রামে যে ভূমিকা পালন করেছিলেন তা এলাকাবাসী চিরকাল স্মরণ রাখবে। তার মৃত্যুতে বিএনপি একজন জনপ্রিয় রাজনীতিবিদ এবং সমাজসেবককে হারালো, যার শূন্যস্থান পূরণ হওয়ার নয় বলেন খালেদা জিয়া।
অপর এক বিবৃতিতে বিএনপি মহাসচিব বলেন, গাইবান্ধা জেলা বিএনপিকে সুসংগঠিত করতে তিনি যে শ্রম দিয়ে গেছেন তা নেতাকর্মী কোনোদিনই বিস্মৃত হবেন না। তার মতো ত্যাগী ও আদর্শবাদী নেতার মৃত্যুতে গাইবান্ধা জেলা বিএনপির যে ক্ষতি হলো তা সহজে পূরণ হওয়ার নয়।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গউসুল আজম ডলারের রুহের মাগফিরাত কামনা করে শোকবিহব্বল পরিবারের সদস্যবর্গ ও আত্মীয়স্বজনদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

0 comments:
Post a Comment
Thanks for your comments.