আরো কমছে জ্বালানি তেলের দাম


অবশেষে দ্বিতীয় দফায় জ্বালানি তেলের দাম কমাতে যাচ্ছে সরকার। নভেম্বরের শেষ সপ্তাহে কিংবা ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে এ দাম কমানোর ঘোষণা আসতে পারে।
গ্রাহক পর্যায়ে প্রতি লিটার অকটেন ও পেট্রোলের দাম ১০ থেকে ১৫ টাকা এবং ডিজেল ও কেরোসিন ৫ থেকে ৭ টাকা কমানো হতে পারে। অর্থ মন্ত্রণালয় এবং বিদ্যুত্, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় সূত্রে এ খবর পাওয়া গেছে।

গত দুই বছরের বেশি সময় ধরে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কয়েকগুণ কমলেও দেশের বাজারে তার প্রতিফলন ঘটেনি। বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি ব্যারেল (প্রায় ১৫৯ লিটার) অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ৪৪ দশমিক ২৫ মার্কিন ডলার।

অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ীদের অব্যাহত দাবি ও পরামর্শের পরিপ্রেক্ষিতে গত এপ্রিলে জ্বালানি তেলের দাম প্রথম দফায় কমানো হলেও বাজারে এর তেমন প্রভাব পড়েনি। পরিবহন ভাড়া কমেনি। তখন দাম কমানোর ঘোষণার সময় বলা হয়েছিল, আন্তর্জাতিক বাজারের সমান্তরালে তেলের দাম কমানো না হলেও তিন ধাপে এ মূল্য সমন্বয় করা হবে।

গত কয়েক মাসে সরকারের কয়েকজন দায়িত্বশীল ব্যক্তি তেলের দাম কমানো হবে বললেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। গত মঙ্গলবার অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক সভায় জ্বালানি তেলের মূল্য সমন্বয়ের ব্যাপারে আলোচনা হয়। সভায় উপস্থিত এক কর্মকর্তা জানান, অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত জ্বালানি তেলের দাম কমানোর বিষয়ে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগকে প্রস্তাব পাঠাতে বলেছেন।

গতকাল সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, আগামী ডিসেম্বরে জাতীয় সংসদের অধিবেশন শুরুর আগেই প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে পরামর্শ করে জ্বালানি তেলের মূল্য কমানোর বিষয়টি চূড়ান্ত করা হবে। এ প্রসঙ্গে গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বিদ্যুত্, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ ইত্তেফাককে বলেন, জ্বালানি তেলের দাম কমানোর বিষয়টি আমরা বিবেচনা করছি। এ সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর অফিস এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ে আরো এক মাস আগেই দেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা পেলেই দাম কমানো হবে। যত দ্রুত সম্ভব এটি করা হবে। জ্বালানি বিভাগ সূত্র জানায়, দেশে উত্পাদিত পেট্রোলের ব্যবহার বাড়ানো ও বিদ্যুতের উত্পাদন খরচ হ্রাসের জন্যও তেলের দাম কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম অব্যাহতভাবে কমার প্রায় দুই বছর পর গত এপ্রিলে সর্বশেষ জ্বালানি তেলের দাম কমানো হয়েছিল।

তখন ডিজেল ও কোরোসিন লিটারপ্রতি তিন টাকা এবং অকটেন ও পেট্রোলে লিটারপ্রতি ১০ টাকা কমানো হয়। এর আগে ৩১ মার্চ ফার্নেস তেলের দাম লিটারপ্রতি ১৮ টাকা কমিয়ে ৪২ টাকা নির্ধারণ করা হয়। বর্তমানে প্রতি লিটার পেট্রোল ৮৬ টাকায়, অকটেন ৮৯ এবং কেরোসিন ও ডিজেল ৬৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) সূত্র জানায়, ওই দাম কমানোর পরও সংস্থাটি বর্তমানে প্রতি লিটার কেরোসিনে ১৬ টাকা ৭৫ পয়সা, ডিজেলে ১৫ টাকা ৭৫ পয়সা, পেট্রোলে ২৩ টাকা ৫০ পয়সা এবং অকটেনে ২৭ টাকা ৭৫ পয়সা লাভ করছে।

জ্বালানি বিভাগের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা জানান, মন্ত্রণালয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার অপেক্ষা করছে। নভেম্বরের শেষ সপ্তাহ কিংবা ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে দাম কমানোর ঘোষণা দেওয়া হতে পারে। ওই কর্মকর্তা জানান, দ্বিতীয় দফায় প্রতি লিটার অকটেন ও পেট্রোল ১০ থেকে ১৫ টাকা এবং ডিজেল ও কেরোসিন ৫ থেকে ৭ টাকা কমানো হতে পারে।
Share on Google Plus

About Unknown

0 comments:

Post a Comment

Thanks for your comments.