ঐকমত্যের ভিত্তিতে একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন গঠন করে স্বচ্ছ নির্বাচন ব্যবস্থার মাধ্যমে দেশের গণতন্ত্রের ধারা বিকশিত করতে হবে।
আজ এক আলোচনা সভায় বক্তারা একথা বলেছেন সভায় সম্মানিত অতিথির বক্তৃতায় আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য ড. আব্দুর রাজ্জাক এমপি বলেন, সরকার বিতর্কিত নির্বাচন চায় না। সরকার চায় সকলের মতামতের ভিত্তিতে আগামী নির্বাচন সুষ্ঠু, সুন্দর, নিরপেক্ষ ও সকলের নিকট গ্রহণযোগ্য একটি নির্বাচন চায়। তিনি বলেন, সকল বিবেচনায় একজন নিরপেক্ষ ব্যক্তি খুঁজে পাওয়া কঠিন। এরপরও কাউকে না কাউকে বিশ্বাস করতেই হবে।
এর মাধ্যমেই বাংলাদেশের অগ্রসরমান গণতন্ত্র আরো এগিয়ে যাবে। তিনি নির্বাচন কমিশন নিয়োগে রাষ্ট্রপতির গঠিত সার্চ কমিটির উপর আস্থা রাখার জন্য সকলের প্রতি আহবান জানান। রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ’ বিষয়ে ইলেকশন ওয়ার্কিং গ্রুপ (ইডব্লিউজি) আয়োজিত আলোচনা সভায় সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু এমপি ও সিপিবি’র সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আবু জাফর।
অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্ঠা হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, সাবেক নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) সাখাওয়াত হোসেন, এডভোকেট ড. শাহদীন মালিক, স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ ড. তোফায়েল আহমেদ, এশিয়া ফাউন্ডেশনের আবাসিক প্রতিনিধি হাসান এম. মজুমদার, ফেমার’র প্রেসিডেন্ট মনিরা খাঁন, সুজন’র সাধারণ সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার, জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. নাসিম আক্তার হাসান, ব্রতী’র নির্বাহী পরিচালক শারমিন মোর্শিদ ও বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু।
ইডব্লিউজি’র সদস্য আব্দুল আউয়ালের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে সংগঠনের পরিচালক ড. আব্দুল আলীম মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এবং স্বাগত বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সদস্য মো. আলাউদ্দিন খান। আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলসহ সকল মহলের মতামত নিয়ে জাতীয় ঐক্যমতের ভিত্তিতে একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন গঠন করতে হবে। জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর চিন্তা, চেতনা, সংস্কৃতি ও মানসিকতায় পরিবর্তন আনতে হবে। দেশের গণতন্ত্রকে বিকশিত করার ব্যাপারে সকলের ঐক্যমত প্রয়োজন। সৈয়দ আবু জাফর বলেন, অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচন সরকারের মানসিকতার উপর নির্ভর করে। যদি নির্বাচন ব্যবস্থায় কালো টাকা ও পেশী শক্তির প্রয়োগ বন্ধ করা না যায় তাহলে একটা তত্ত্বাবধায়ক সরকার হলেই অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) সাখাওয়াত হোসেন বলেন, নির্বাচন একটি বিশাল কর্মযজ্ঞ, এই কর্মযজ্ঞ সম্পাদনে যোগ্যতাসম্পন্ন ব্যক্তিকেই প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে নিয়োগ দিতে হবে। নির্বাচন কমিশন নিয়োগে আইন প্রণয়নের উপর গুরুত্বারোপ করে ড. শাহাদীন মালিক বলেন, সংবিধানে আইনের কথা বলা হয়েছে, সার্চ কমিটির কথা উল্লেখ নেই।
ফলে কমিশন নিয়োগের আগেই আইন প্রণয়ন করা জরুরি। ইডব্লিউজি’র এডভোকেসি পেপারে বলা হয়, যখন যথাযথ যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা-সম্পন্ন, পেশাদার ও নিরপেক্ষ ব্যক্তিবর্গকে নির্বাচন কমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়, তখন তা শুধু নির্বাচন কমিশন ও নির্বাচনী প্রক্রিয়ায়ই নয় বরং বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচনের ভিত্তি হিসেবেও কাজ করে। যদিও অবাধ, সুষ্ঠু ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচনের জন্য একটি ‘স্বাধীন’ নির্বাচন পরিচালনাকারী সংস্থাই বিশ্বব্যাপী কাম্য, একইসাথে নির্বাচন কমিশনারদের ব্যক্তিগত স্বাধীনতা এবং সততাও এর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এডভোকেসি পেপারে একটি সার্চ কমিটি গঠনের সুপারিশ করা হয়েছে। এই সার্চ কমিটি দেশের সকল নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের সাথে পৃথক সভা করবেন এবং যোগ্যতার ভিত্তিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং অন্যান্য নির্বাচন কমিশনারদের নাম জানতে চাইবেন। এই কমিটি রাষ্টপতির কাছে প্রতিটি পদের জন্য ৩ জন করে মোট ১৫ জনের তালিকা দাখিল করবেন, এই তালিকায় ৩ জন নারীর নাম থাকতে হবে। রাষ্ট্রপতি ১৫ জনের নামের তালিকা পাওয়ার পর সাক্ষাৎকারের জন্য তালিকাটি সংসদীয় কমিটিতে পাঠাবেন। সাক্ষাৎকারের পর প্রতিটি পদের বিপরীতে ২ জন করে তালিকাটি ১০ সদস্যে নামিয়ে আনবেন, এরমধ্যে কমপক্ষে ২ জন নারী থাকবেন এবং তা রাষ্ট্রপতি বরাবর পাঠিয়ে দেবেন। রাষ্ট্রপতি ওই ১০ জনের তালিকা থেকে ১ জন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং ৪ জন নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের সিদ্ধান্ত দিয়ে তাদের নিয়োগের জন্য মন্ত্রিপরিষদ সচিবের কাছে পাঠাবেন।

0 comments:
Post a Comment
Thanks for your comments.