আগামী ২৮ ডিসেম্বর অনুষ্ঠেয় দেশের ৬১ জেলা পরিষদ নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী বাছাইয়ের প্রক্রিয়া শুরু করেছে আওয়ামী লীগ। আগামী ১৮ নভেম্বরের মধ্যে ধানমন্ডিস্থ আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের আবেদনপত্র, সদ্য তোলা দু’কপি পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি ও জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপিসহ জীবন বৃত্তান্ত পাঠানোর জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ড. আব্দুস সোবহান গোলাপ স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ির জন্য আলাদা আইন থাকায় পার্বত্য চট্টগ্রামের এই তিন জেলায় নির্বাচন হবে না। সরকার ২০১১ সালের ১৫ ডিসেম্বর পার্বত্য চট্টগ্রামের তিনটি জেলা বাদে বাকি ৬১টি জেলা পরিষদে দলীয় নেতাদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেয়। কোনো প্রশাসক নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চাইলে তাকে পদত্যাগ করতে হবে। জেলা পরিষদ নির্বাচন করার জন্য গত ৬ অক্টোবর জেলা পরিষদ আইন সংশোধন করে সংসদে বিল পাস হয়। আইন অনুযায়ী, জেলা পরিষদ নির্বাচনে সাধারণ মানুষের ভোট দেওয়ার সুযোগ নেই।
ভোট দেবেন ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, উপজেলা ও সিটি করপোরেশনের নির্বাচিত প্রতিনিধি বা নির্বাচকমণ্ডলী। তাদের ভোটে একজন চেয়ারম্যান, ১৫ জন সদস্য ও সংরক্ষিত পাঁচজন নারী সদস্য নির্বাচিত হবেন। এ হিসেবে দেশের ৬১টি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীদের বিজয় অনেকটা নিশ্চিত। কারণ জেলা পরিষদ নির্বাচনের ভোটার ইউপি, পৌরসভা, উপজেলা ও সিটি করপোরেশনের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের বেশিরভাগই আওয়ামী লীগের। কমিশন সচিবালয়ের হিসাব অনুযায়ী, ৬১ জেলায় মোট জনপ্রতিনিধির সংখ্যা প্রায় ৬৫ হাজার, যারা ওই নির্বাচনের ভোটার। প্রতিটি ইউপিতে জনপ্রতিনিধি অর্থাত্ ‘ভোটার’ ১৩ জন। এর মধ্যে একজন চেয়ারম্যান, সাধারণ আসনের ৯ জন এবং সংরক্ষিত নারী আসনের ৩ জন সদস্য রয়েছেন। এই হিসাবে সাড়ে ৪ হাজার ইউপির ভোটার সংখ্যা সাড়ে ৫৮ হাজার।

0 comments:
Post a Comment
Thanks for your comments.