যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপর ‘ব্যাপক আস্থা’ থাকার কথা জানালেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে। বৃহস্পতিবার (১৭ নভেম্বর) নিউ ইয়র্কের ট্রাম্প টাওয়ারে নবনির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ৯০ মিনিটের বৈঠকের পর এমন কথা জানান আবে।
দুই দেশের মধ্যে বিশ্বাসের বন্ধন গড়ে তোলার ব্যাপারেও আশা প্রকাশ করেন তিনি। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি খবরটি নিশ্চিত করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ট্রাম্পের জয় নিশ্চিত হওয়ার পরই তাকে অভিনন্দন জানিয়ে ফোন করেছিলেন আবে। পেরুতে এশিয়া-প্যাসিফিক ট্রেড সামিটে যোগ দিতে যাওয়ার পথে নিউ ইয়র্কে ট্রাম্পের সঙ্গে দেখা করবেন বলে জানিয়েছিলেন তিনি।
আর সে অনুযায়ী বৃহস্পতিবার ম্যানহাটনের ট্রাম্প টাওয়ারে দুজন সাক্ষাৎ করেন। নির্বাচিত হওয়ার পর এ প্রথম কোনও বিদেশি নেতার সঙ্গে ট্রাম্পের সাক্ষাৎ হলো। ট্রাম্পের সঙ্গে সঙ্গে অনুষ্ঠিত ৯০ মিনিটের বৈঠককে ‘খোলামেলা’ বলে উল্লেখ করেছেন আবে। বৈঠকের পরিবেশকেও ‘উষ্ণ’ বলে উল্লেখ করেন তিনি। আবে বলেন, ‘অনেক সময় নিয়ে আমরা একটি খোলামেলা আলোচনায় অংশ নিতে পেরেছি। খুব উষ্ণ একটি পরিবেশে এ বৈঠক হলো।
আমি বিশ্বাস করি, দুটি দেশের মধ্যে আস্থা না থাকলে ভবিষ্যতে তারা একজোট হয়েও ভালো কাজ করতে পারে না। আজকের আলোচনায় আমি ট্রাম্পকে বোঝাতে পেরেছি যে ট্রাম্প এমন এক নেতা যার ওপর আমার ব্যাপক আস্থা রয়েছে।’ তবে বৈঠকে কী নিয়ে আলোচনা হলো সে ব্যাপারে বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি। আবে শুধু জানিয়েছেন বিভিন্ন ইস্যুতে গভীরতর আলোচনার জন্য আবারও মিলিত হওয়ার ব্যাপারে তারা সম্মত হয়েছেন। উল্লেখ্য, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষ হওয়ার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের খুব গুরুত্বপূর্ণ মিত্র হয়ে আছে জাপান। নির্বাচনি প্রচারণায় যুক্তরাষ্ট্র-জাপান সম্পর্ক নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করেছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।
গত আগস্টে নির্বাচনি প্রচারণায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা সহায়তা পাওয়া জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার মতো দেশগুলোকে নিয়ে প্রশ্ন তোলেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘জাপানের সঙ্গে আমাদের চুক্তি আছে। সে অনুযায়ী জাপানে হামলা হলে যুক্তরাষ্ট্রকে পূর্ণ শক্তি ব্যবহার করতে হবে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র আক্রান্ত হলে, জাপানকে কিছুই করতে হবে না। তারা নিজেদের বাড়িতে বসে সনি টিভি দেখতে পারবে।’
তাছাড়া জাপান ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর সাথে বারাক ওবামার করা একটি বাণিজ্য চুক্তিরও কড়া সমালোচনা করেছিলেন। ট্রান্স-প্যাসিফিক পার্টনারশিপ ট্রেড ডিল নামের ওই চুক্তি বাতিল করারও ঘোষণা দিয়েছিলেন ট্রাম্প।
তবে চুক্তিটিকে প্রচণ্ডভাবে সমর্থন করেন আবে। চীনের ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ঠেকানোর ক্ষেত্রে এ চুক্তিকে খুব কার্যকরী বলে মনে করেন তিনি। এরইমধ্যে জাপানের পার্লামেন্টে চুক্তিটির অনুমোদনও হয়েছে। আবের মন্ত্রিসভার বিশেষ উপদেষ্টা তমোহিকো তানিগুচি দাবি করেছেন, নির্বাচনী প্রচারণার সময়কার মনোভাব বদলে ট্রাম্প এখন ভবিষ্যৎ সম্পর্কের দিকে তাকাতে চাইছেন।

0 comments:
Post a Comment
Thanks for your comments.