চট্টগ্রামে স্ত্রী হত্যার দায়ে প্রায় দুই যুগ আগে দায়ের হওয়া একটি মামলায় স্বামী সাবের আলীকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদ- দিয়েছেন চট্টগ্রামের একটি আদালত।
একই রায়ে আদালত তাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদ- দিয়েছেন। এছাড়া অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় সাবের আলী দ্বিতীয় স্ত্রী মনোয়ারা বেগম এবং নিকটাত্মীয় জামাল হোসেনকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন আদালত।
গতকাল বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামের বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মীর রহুল আমিন এ রায় দিয়েছেন। দ-িত সাবেরসহ তিন আসামি বর্তমানে পলাতক আছে। বিশেষ জজ আদালতের পিপি অ্যাডভোকেট মেজবাহ উদ্দিন চৌধুরী বলেন, আসামি সাবেরের বিরুদ্ধে দ-বিধির ৩০২ ধারায় অভিযোগ রাষ্ট্রপক্ষ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে।
এর মাধ্যমে ২২ বছর আগের মামলাটি আমরা নিষ্পত্তি করতে সক্ষম হয়েছি। আদালত সূত্রে জানা গেছে, নগরীর পাঁচলাইশ থানার হিলভিউ হাউজিং সোসাইটিতে জজ সাহেবের প্লটের বাসায় থাকত সাবের আলী ও তার স্ত্রী আরজু বেগম।
মনোয়ারা বেগমকে বিয়ে করা নিয়ে সাবের ও আরজুর মধ্যে মনোমালিন্য ছিল। ১৯৯৪ সালের ১ অক্টোবর বাসা থেকে আনুমানিক ৫শ গজ দূরে ঝুলন্ত অবস্থায় আরজু বেগমের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ সময় পুলিশ আরজু আত্মহত্যা করেছে বলে তথ্য পায়।
কিন্তু ঘটনার ৯ দিন পর ৯ অক্টোবর আরজুর বাবা নাজির হোসেন স্বামী সাবেরসহ তিনজনকে আসামি করে পাঁচলাইশ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার এজাহারে বলা হয়, তিনজন মিলে আরজুকে শ্বাসরোধ করে খুন করে মরদেহ ঝুলিয়ে রাখে। পাঁচলাইশ থানার তৎকালীন এসআই জয়নাল আবেদিন তদন্ত শেষে ১৯৯৫ সালের ১২ অক্টোবর আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। ১৯৯৭ সালের ২২ এপ্রিল আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত। মামলায় মোট ৬ জনের সাক্ষ্য নেয়া হয়।

0 comments:
Post a Comment
Thanks for your comments.