দেশে ‘মেগা প্রকল্প’ বাস্তবায়নের নাম করে সরকার ‘মেগা দুর্নীতির ক্ষেত্র’ তৈরি করছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি নেতা গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।
রাজধানীতে বৃহস্পতিবার রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র নিয়ে এক আলোচনা সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এই মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, আজকে প্রকল্প যা দেখছেন- দেশপ্রেমের কোনো মূল্য নেই। আজকে উন্নয়নের নামে দেশে মেগা মেগা প্রকল্পের নামে মেগা দুর্নীতির ক্ষেত্র তৈরি করা হচ্ছে। লাখ টাকার প্রকল্প কোটি টাকা দিয়ে করা হচ্ছে বিদেশিদের খুশি করার জন্য। বিনিময়ে পর্দার অন্তরালে যে লেনদেনটা হচ্ছে, আপাতত জনগণ তা দেখছে না, খুঁজছে না।
নিকট ভবিষ্যতে দেশের মানুষ দীর্ঘ ঋণে আক্রান্ত হবে এবং এই ঋণ পরিশোধ করার তাদের ক্ষমতা থাকবে না। জাতীয় প্রেস ক্লাবের ভিআইপি বিএনপির বন ও পরিবেশ বিষয়ক উইংয়ের উদ্যোগে ‘সুন্দরবন: সর্বনাশের আর এক নাম রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র’ শীর্ষক এই আলোচনা সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন উদ্ভিদ বিশেষজ্ঞ ও পরমাণু শক্তি কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক আব্দুল আজিজ।
গয়েশ্বর বলেন, “রামপালে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প প্রতিরোধ রাজনৈতিক বিবেচনায় মাঠে নামার কোনো বিকল্প নেই।” ঢাকায় ফ্লাইওভার নির্মাণ প্রকল্পের ব্যয় বাড়ানোর কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, কোনো প্রকল্প বাস্তবায়নে সরকারের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ কোম্পানি নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করতে না পারলে কার্যাদেশ বাতিল হয়, জামানতের টাকাও বাতিল করা হয়। অথচ শেখ হাসিনার দেশে কি সুন্দর! যতো দেরি, ততো টাকা বাড়ে। যতোবার সময় বাড়ে, ব্যয়ও বাড়ে।
রামপাল বিদ্যুৎ প্রকল্পকে দেশের জন্য ভয়াবহ ক্ষতিকর’ আখ্যা দিয়ে গয়েশ্বর বলেন, এই প্রকল্প দেশের স্বার্থবিরোধী। অন্য দেশকে খুশি করার জন্য করা হয়েছে। আজকের সরকার দেশকে নিয়ে বাজি ধরেছে, বাজিমাৎ করছে। দেশটাকে বাঁচাতে হবে, সুন্দরবনকে বাঁচাতে হবে। সুন্দরবন ধ্বংস মানে বাংলাদেশকে ধ্বংস করা। তাই রামপাল প্রকল্প প্রতিরোধে আমাদেরকে মাঠে নামা ছাড়া আর কোনো বিকল্প নাই।
বিএনপির বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় অন্যান্যের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আখতার হোসেন খান, বন ও পরিবেশ বিষয়ক সহ সম্পাদক কাজী রওনাকুল ইসলাম টিপু ও সহ সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুল আউয়াল খান বক্তব্য রাখেন।

0 comments:
Post a Comment
Thanks for your comments.