পরীক্ষার্থী কমেছে প্রাথমিক সমাপনীতে


পঞ্চম শ্রেণির সমাপনী পরীক্ষায় ধারাবাহিকভাবে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়লেও তাতে ছেদ পড়েছে এবার; গতবারের থেকে পরীক্ষার্থী কমেছে ২৪ হাজার ২২৬ জন।


প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান ফিজার বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, প্রাথমিক ও ইবতেদায়ি শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় এবার ৩২ লাখ ৩০ হাজার ২৮৮ জন শিক্ষার্থী অংশ নেবে। গত বছর ৩২ লাখ ৫৪ হাজার ৫১৪ জন শিক্ষার্থী এ পরীক্ষার জন‌্য নিবন্ধিত হয়েছিল। সেই হিসাবে এবার পরীক্ষার্থী কমেছে ২৪ হাজার ২২৬ জন।

 হঠাৎ করে পরীক্ষার্থী কমে যাওয়ার কোনো কারণ জানাতে পারেননি মন্ত্রী। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে প্রথমে তিনি পরীক্ষার্থী বাড়ার কথা বললেও পরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে তথ‌্য সংশোধন করেন।

আগামী ২০ থেকে ২৭ নভেম্বর বাংলাদেশের ৭ হাজার ১৯৪টি এবং বিদেশের ১১টি কেন্দ্রে প্রাথমিক ও ইবেতেদায়ি সমাপনী পরীক্ষা হবে।

প্রাথমিক সমাপনীর ৮ বছর পরীক্ষা বছর নিবন্ধিত পরীক্ষার্থী প্রাথমিক ও ইবতেদায়ি সমাপনী ২০১৬ 

৩২,৩০,২৮৮ প্রাথমিক ও ইবতেদায়ি সমাপনী ২০১৫ ৩২,৫৪,৫১৪ প্রাথমিক ও ইবতেদায়ি সমাপনী ২০১৪ ৩০,৯৪,২৬৫

প্রাথমিক ও ইবতেদায়ি সমাপনী ২০১৩ ২৯,৫০,১৯৩ প্রাথমিক ও ইবতেদায়ি সমাপনী ২০১২ ২৯,৬৯,৪০২ প্রাথমিক ও ইবতেদায়ি সমাপনী ২০১১ ২৬,৩৭,২৩৫ প্রাথমিক ও ইবতেদায়ি সমাপনী ২০১০ ২২,০৫,১৯৭

 প্রাথমিক সমাপনী ২০০৯ ১৯,৭৯,৮৯৫ ফিজার জানান, প্রাথমিক সমপানীতে এবার ২৯ লাখ ৩০ হাজার ৫৭৩ জন পরীক্ষা দেবে।

এর মধ্যে ১৩ লাখ ৪৬ হাজার ৩২ জন ছাত্র এবং ১৫ লাখ ৮৪ হাজার ৫৪১ জন ছাত্রী। আর ইবেতেদায়ির ২ লাখ ৯৯ হাজার ৭১৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১ লাখ ৫৭ হাজার ৩১৯ জন ছাত্র এবং ১ লাখ ৪২ হাজার ৩৯৬ জন ছাত্রী। এবার প্রাথমিক সমাপনীতে ২ হাজার ৮৫৭ জন এবং ইবতেদায়িতে ৯০ জন বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন (অটিস্টিক) পরীক্ষার্থী অংশ নেবে

 এবার পরীক্ষার্থী কেন কমল- এ প্রশ্নে ফিজার বলেন, “কমবে বা বাড়বে সেটা ছাত্রসংখ্যার উপর নির্ভর করবে।

কোনো কারণে যদি কোনো জায়গায় কম হয় অন্য কোনো কারণ এর মধ্যে নেই।” পরে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আলমগীর মন্ত্রীকে জানান, প্রাথমিক ও ইবতেদায়িতে এবার ২০ হাজার ১৯১ জন শিক্ষার্থী কমেছে। ফিজার এরপর বলেন, “কোনো কারণে জন্মহার কমে যায়…, এমনও হতে পারে হিসাব-নিকাশের ক্ষেত্রে…।

“আসলে লোকসংখ্যা বাড়ছে, দৈনন্দিন চাহিদা বাড়ছে, তাহলে এখানে (পরীক্ষার্থী) কমল কেন? ধরে নিতে হবে ব্যবস্থাপনার মধ্যে এখন স্বচ্ছতার মাত্রা বোধ হয় বাড়ছে, এ কারণে কোনো জায়গায় কোনো ভুলত্রুটি থাকলে সংশোধনীর আওতায় চলে আসছে, আমার মনে হয় সে রকমও হতে পারে।” এরপরও সাংবাদিকরা সুনির্দিষ্ট কারণ জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, “গবেষণামূলক কোনো বিষয় দরকার নেই। আমার মনে হয় হিসাব-নিকাশের ব্যাপার হতে পারে, এর মধ্যে অন্য কোনো কিছু নেই। ফাইল ছবি “বিভিন্ন জায়গা থেকে তথ্য নিয়ে সেই তথ্য দিয়েছি। কমা-বেশির কারণ আমাদের কাছে আসেনি। আমরা যা তথ্য চেয়েছি সেই তথ্য পেয়েছি, এখানে তাই দিলাম।”

পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য ২০০৯ সাল থেকে প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষা শুরু হয়। আর ইবতেদায়ীতে এই পরীক্ষা হচ্ছে ২০১০ সাল থেকে। প্রথম দুই বছর বিভাগভিত্তিক ফল দেওয়া হলেও ২০১১ সাল থেকে গ্রেডিং পদ্ধতিতে ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের সমাপনীর ফল দেওয়া হচ্ছে। আগে এই পরীক্ষার সময় দুই ঘণ্টা হত; ২০১৩ সাল থেকে পরীক্ষার সময় আধ ঘণ্টা বাড়িয়ে আড়াই ঘণ্টা করা হয়। প্রশ্ন ফাঁস ঠেকাতে ৬৪ জেলাকে বিশেষ আটটি অঞ্চলে ভাগ করে আট সেট প্রশ্নে গত বছর থেকে প্রাথমিক ও ইবেতেদায়ি শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা নিচ্ছে সরকার।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব আসিফ-উজ-জামান, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আলমগীর ছাড়াও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন। প্রাথমিক সমাপনীর সূচি: ২০ নভেম্বর ইংরেজি, ২১ নভেম্বর বাংলা, ২২ নভেম্বর বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয়, ২৩ নভেম্বর প্রাথমিক বিজ্ঞান, ২৪ নভেম্বর ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষা ও ২৭ নভেম্বর গণিত। ইবতেদায়ী সমাপনী সূচি: ২০ নভেম্বর ইংরেজি, ২১ নভেম্বর বাংলা, ২২ নভেম্বর বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয়, ২৩ নভেম্বর আরবি, ২৪ নভেম্বর কুরআন ও তাজবীদ এবং আকাঈদ ও ফিকহ, ২৭ নভেম্বর গণিত।
Share on Google Plus

About Unknown

0 comments:

Post a Comment

Thanks for your comments.