যৌন অক্ষমতা : পুরুষ বা নারীর


যখন কোন পুরুষ বা নারীকে ‘যৌন অক্ষম’ বলা হয় তখন এই শব্দটি কি বুঝাতে চায়? যৌন অক্ষম বললে কি কোন নর-নারী সম্পূর্ণরূপে যৌন-মিলনে অক্ষম তাই বুঝায়? যৌন অক্ষম বললে রতিমিলনে অক্ষম, পুরো সক্ষম নন, এমনি নর-নারীর কথা বুঝা যায়। প্রত্যেক সুস্থ দীর্ঘদিন ধরে যৌনজীবনে উৎসাহী এবং সক্ষম থাকে। যৌনস্বাস্থ্য এবং যৌনক্ষম্মতা কারও একদিনেই নষ্ট হয় না বা নিঃশেষ হয়ে যায় না; নিঃশেষ হতে থাকে ধীরে ধীরে এবং ক্রমশ। 


বয়সের অনুপাতে যৌনক্ষমতার তারতম্য হয়

একজন ৬০ বছর বয়স্ক লোকের পক্ষে যা স্বাভাবিক অবস্থা, একজন ২০ বা ৩০ বছরের যুবকের পক্ষে টা চরম দুর্বলতা বা অক্ষমতা। ফরাসী যৌন বিজ্ঞানীরা যৌনক্ষমতা কে দুটি সুনির্দিষ্ট ভাগে ভাগ করেছেন। তারা এক শ্রেণীকে বলেছেন অর্থাৎ আমার যখন ইচ্ছা তখনই আমি যৌন-মিলনে অংশগ্রহণ করতে পারি। দ্বিতীয় শ্রেণী বলেছেন —আমি মিলনে অংশগ্রহণ করতে পারি যখন আমার মধ্যে যৌনক্ষমতা বজায় থাকে।

সাধারণতঃ ১৬ থেকে ৩৮ বছর বয়সের মধ্যে, কখনও কখনও ৪০—৪৫ বছর বয়স পর্যন্তও একজন পুরুষ দিন বা রাত্রি যে কোন সময়, যখনই ইচ্ছা রতিমিলনে প্রবৃত্ত হতে পারেন।

এই রতিমিলনের জন্য তিনি ইচ্ছা করলে রতিলীলার দ্বারা নিজেকে উত্তেজিত করে নিতে পারেন অথবা রতিলীলাকে বাদও দিতে পারেন। এই মিলনে তাঁর স্ত্রী সঙ্গীর ইচ্ছা বা আধা ইচ্ছাও থাকতে পারে এবং যে কোন অবস্থায় , যে কোন ভঙ্গিতে এবং যে কোন অবস্থানে এরা মিলনে প্রবৃত্তি হতে পারেন। চিল্লিশ বা পঞ্চাশোরধ ব্যক্তিরা মিলনের সময় এবং সযন্তে নির্বাচন করে নিলেও সব সময় মিলনে অংশ গ্রহণ করতে পারে না। বয়স যত বাড়তে থাকে, যউল মিলনের বিরতির সময় ততই দীর্ঘ হতে থাকে। এই বয়সে মিলনে প্রবৃত্ত হতে গেলে এরা রতিলীলার দ্বারা তীব্রভাবে উত্তেজনা লাভের প্রয়োজন অনুভব করেন। শুধু রতিলীলায় অভিজ্ঞ, ধৈর্যশীল এবং তীব্র যৌন আকর্ষণ সম্পন্না ।

মিলনসঙ্গীর এইসব দৈহিক এবং চরিত্রগুণ এই বয়সের পুরুষের যৌন মিলনের অন্যতম প্রধান সহায়ক । 

মন বহু বয়স্ক আছেন, যারা অপরিচিত এবং অসহযোগী নারীর সান্নিধ্যে এলে যৌন অক্ষম হয়ে যান, কিন্তু স্ত্রীর কাছে এলে মিলনে সহজে অংশ গ্রহণ করতে পারেন। আবার স্ত্রীর বয়স বেশী হওয়ার জন্য অথবা কোন অসুখ-বিসুখের ফলে দৈহিক স্বাস্থ্য এবং সৌন্দর্য নষ্ট হয়ে যাওয়া এইসব স্বামীরা যৌন জীবনে অক্ষম হয়ে যান। পুরুষের বেশী বয়সে যৌন অক্ষম হয়ে যাওয়ার মুলে যেসব কারণ আছে, এই কারণটি তাঁর মধ্যে একটি অন্যতম প্রধান কারণ। পূর্ণ রতিবিরতির জন্যও কিছু সংখ্যক পুরুষকে যৌন অক্ষম হয়ে যেতে দেখা যায়। দীর্ঘদিন ধরে মিলনাকাঙ্খাকে কঠিন সংযম এবং ব্রহ্মচর্যেরদ্বারা দমন করে রাখলে এবং কামাবেগকে দূরে রাখলে অনেকে শেষ পর্যন্ত যৌন অক্ষম হয়ে পড়ে। এমনকি যৌনমিলনে অভিজ্ঞ এবং সক্ষম ব্যক্তি যদি একাধিক্রমে ৩/৪ মাস রতিবিরতি দেন তাহলে তাঁর যৌনক্ষমতা এবং কামোত্তেজনা কমে যায়। যৌন ক্রিয়াকলাপ দেহের সাধারণ ধর্মকে অনুসরণ করে চলে।
দেহ দীর্ঘদিন যদি বিশ্রাম পায় তাহলে যৌন ক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়ে—এবং নিয়মিত পরিচর্যা হলে ক্রমশঃ যেমন শক্তিশালী হয় তেমনিও কামাবেগের তীব্রতাও বাড়ে। 

অবশ্য এই ধরণের যৌনক্ষমতা উপযুক্ত চিকিৎসা দ্বারা সুস্থ করা যায়। কিছু দিন আগে জনৈক ভদ্রলোক তাঁর বিবরণ আমাকে জানিয়ে চিকিৎসার কথা বলেন। এখানে ঐ ভদ্রলোকের পুরো কাহিনী বর্ণনা করছি। তবে ভদ্রলোকের নাম, স্থান এবং পরিবেশ কিছুটা পরিবর্তন করে দিলাম। ধরুণ ভদ্রলোকের নাম—জয়ন্ত শীল, বয়স ২৮ থেকে ৩০ এর মধ্যে। সুন্দর চেহারা,স্বাস্থ্য ভাল এবং প্রচুর টাকা পয়সার মালিক। খুব বড় একটা ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের অন্যতম অংশীদার এবং তাঁর ব্যবসায়ীক বুদ্ধির ফলে তাদের প্রতিষ্ঠান দিনের পর দিন উন্নতি করছে। এমন একজন সুপুরুষ বিজনেস এক্সিকিউটিভের কাছে বহু মেয়ে যাতায়াত করে। যেহেতু ভদ্রলোক অবিবাহিত তাই অনেক মেয়ে তাঁকে আকর্ষণ করারও চেষ্টা করে। একদিন এই ভদ্রলোকের সংস্পর্শে এমন একজন যুবতী মহিলা এলেন যার দিকে একবার তাকালে আরও কয়েকবার তাকানোর লোভ সংবরণ করা যায় না। মহিলার স্বাস্থ্য, সৌন্দর্য, মুখের গঠন, চোখের চাহনিতে এমন এক তীব্র আকর্ষণ ছিল—যা পুরুষমাত্রেকেই আকর্ষণ করে। জয়ন্তবাবু ভরা যৌবনের এই নারীর প্রতি আকৃষ্ট হলেন। তিনি যদিও অবিবাহিত, কিন্তু ইতিপূর্বে অনেক নারীর সঙ্গে তাঁর যউলমিলনের সুযোগ এসেছে। কিন্তু এমন লোভনীয় নারী বোধ হয় তাঁর জীবনে এই প্রথম। এইবার জয়ন্তবাবুর নিজের মুখে তাঁর কাহিনী শুনুনঃ “আমার কাছে চাকরীর আবেদন নিয়ে এসেছিল শিলা। চাকরী তাঁর দরকার ছিল না, দরকার ছিল একটা কাজ, সময় কাটাবার জন্য এবং ইচ্ছেমতো খরচ করার জন্য কিছু অর্থ। ওর চোখ মুখ দেখে বুঝলাম আমার ঘনিষ্ঠ হতে চায় সে। সামান্য একটা অফার দিলাম—শনিবারে আসুন না আমার সঙ্গে ডিনারে? রাজী হোল শীলা। শনিবারে ঠিক সন্ধ্যায় এলো শীলা। ওকে নিয়ে গেলাম একটা হোটেলে। ওখানে আমরা ডিনার খেলাম খুব ঘনিষ্ঠ হয়ে বসে। তারপর সেখান থেকে চললাম আর আক হোটেলে যেখানে আমরা রাত্রিতে থাকব একত্রে। গাড়িতে যাওয়ার সময় আমি ওর সর্বাঙ্গ স্পর্শ করে ওর মনের কথা বুঝে নিলাম। তারপর হোটেলে যাওয়ার পর ঘরে ঢুকেই ও নিজে আমার সামনে বিবস্ত্র হল এবং আমাকে আহ্বান করলো। যে মুহূর্তেটির জন্য আমি অপেক্ষা করছিলাম—সেই সোনালী মুহূর্তটি এলো। আমার সামনে একটি জীবন্ত ভেনাসের মূর্তি আমাকে ডাকছে তাঁর দেহের প্রান্তে। কিন্তু হায়! আমি অক্ষম, আমি পৌরুষহীন। কিছুতেই আমার লিঙ্গ উত্তেজিত হলো না। শীলা এবার নিজে আমার লিঙ্গত্থানের জন্য চেষ্টা শুরু করলো—কিন্তু সবই হলো। এরপর সমস্ত রাত্রি ধরে আমি চেষ্টা করেছি—কিন্তু সেই শক্তি আর ফিরে এলো না।

আর কিছু সংখ্যক লোকের মধ্যে এই অবস্থা আসার আগে তাদের মধ্যে যৌনমিলনের প্রতি আগ্রহ এবং উৎসাহ কমতে থাকে, ক্লান্তি বেশি বলে মনে হয়—তারপর শেষ পর্যন্ত উত্তেজনাশক্তি রহিত হয়ে যায়।

আজ যে পুরুষ যৌনজীবনে সম্পূর্ণ সক্ষম এবং শক্তিশালী, কাল সে যে অক্ষম এবং যৌনক্ষমতাবিহীন হবে না, এমন কোন গ্যারান্টি নেই। যেসব পুরুষের আকস্মিকভাবে অক্ষমতা আসে, তারা কিন্তু এর আগে কোন প্রকার অক্ষমতাজনিত অসুবিধার কোনই আভাষ পায় না। পুরুষের জীবনে যৌন-অক্ষমতা স্থায়ী বা অস্থায়ী যে ভাবেই আসুক এর মতো বড় অপমান এবং দুর্বলতা পুরুষের আর নেই। এই দুর্ঘটনা যাতে কারও জীবনে না ঘটে—সেই জন্য প্রত্যেক যুবককে কয়েকটি উপদেশ দিতে চাই।
Share on Google Plus

About Unknown

0 comments:

Post a Comment

Thanks for your comments.